• ঢাকা
  • শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৬ এএম


‘আমার বুদ্ধি সবচেয়ে বেশি’, নিজের আইকিউ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩০ পিএম

‘আমার বুদ্ধি সবচেয়ে বেশি’, নিজের আইকিউ নিয়ে ট্রাম্পের দাবিনিজের ‘সর্বোচ্চ আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তা’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে তিনি তার প্রয়াত চাচা জন ট্রাম্পের জিনগত প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন। জন ট্রাম্প ছিলেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি—এমআইটির খ্যাতিমান পদার্থবিদ ও প্রকৌশলী। তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে ৪১ বছর শিক্ষকতা করেন।সম্প্রতি টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে তার বিরোধ, ওয়াশিংটন ডিসিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ, ইরান যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে তার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।সাক্ষাৎকারে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প হঠাৎ তার চাচা জন ট্রাম্পের প্রসঙ্গ তোলেন।ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, তারা তার চাচাকে নিয়ে খবর দেখেছেন কি না। এরপর নিজের বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে তিনি বলেন, তার আইকিউ সর্বোচ্চ এবং তিনি প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো বোঝেন। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তার চাচা এমআইটিতে ৪১ বছর ছিলেন। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি জিনতত্ত্বে বিশ্বাস করেন এবং বিষয়টি বোঝেন।এরপর ট্রাম্প দাবি করেন, অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় তিনি এসব বিষয় অনেক বেশি বোঝেন এবং নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রগুলোতে তার বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে।কে ছিলেন ট্রাম্পের চাচা জন ট্রাম্প?ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রয়াত চাচা ড. জন জর্জ ট্রাম্প ছিলেন এমআইটির প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। উচ্চভোল্টেজ প্রযুক্তি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাডার প্রযুক্তি এবং ক্যানসার চিকিৎসা গবেষণায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।১৯৮৩ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান জন ট্রাম্পকে ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্সে ভূষিত করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি মারা যান।জন ট্রাম্পের প্রসঙ্গ এর আগেও একাধিকবার তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি নিজের চাচার ‘ভালো জিন’-এর কথা উল্লেখ করেছিলেন।২০২৪ সালের শুরুর দিকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমআইটিতে তার চাচার একটি সাদা-কালো ছবি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ছবিতে জন ট্রাম্পকে কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে দেখা যায়। ছবিটি প্রকাশ করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, এমআইটি ‘ওক’ প্রতিষ্ঠান হওয়ার অনেক আগে তার চাচা সেখানে ছিলেন।নিজের বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে চাচার বংশগত বৈশিষ্ট্যের যোগসূত্রের কথাও ট্রাম্প অতীতে বলেছেন। ২০১৬ সালের প্রচারণার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘এটা আমার রক্তে আছে। আমি বুদ্ধিমান।’সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঠাট্টাট্রাম্পের এবারকার ‘চাচার কাছ থেকে আইকিউ পাওয়া’ ধরনের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, চাচার বুদ্ধিমত্তা সরাসরি ভাতিজার মধ্যে জিনগতভাবে চলে আসার এমন দাবি কতটা বৈজ্ঞানিকভাবে যৌক্তিক।একজন এক্স ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ট্রাম্প জেনেটিকস কীভাবে কাজ করে তা বোঝেন না। তার যুক্তি, কোনো ব্যক্তির চাচা তার বাবা নন; তাই চাচার বুদ্ধিমত্তা সরাসরি ভাতিজার মধ্যে চলে আসার বিষয়টি এভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না।আরেকজন লিখেছেন, কারও চাচা অত্যন্ত বুদ্ধিমান হলেই সেই ব্যক্তিও একইভাবে বুদ্ধিমান হয়ে যাবেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।তবে জন ট্রাম্পের বৈজ্ঞানিক মেধা ও অবদান নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় এমআইটিতে অধ্যাপনা করেছেন এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাডার প্রযুক্তির উন্নয়নসহ উচ্চভোল্টেজ প্রযুক্তি ও ক্যানসার চিকিৎসা গবেষণাতেও তার অবদান ছিল।

/বিএসএস