• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম


মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে ‘ভূ’তুড়ে’ বিল ৫০৬ কোটি টাকা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:২৪ পিএম

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেও এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল ইস্যু করা হয়েছে। অস্বাভাবিক এই বিল দেখে হতবাক হয়ে যান গ্রাহক ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের ভুল শনাক্ত হলে বিলটি সংশোধন করে ১ হাজার ৯৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত সংশোধিত বিলের টাকাই পরিশোধ করেন গ্রাহক।

সম্প্রতি মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোছা. আলেয়া খাতুন ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। তার নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের বিদ্যুৎ বিলটি ইস্যু করে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিস।

বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫। এর আগে ৮ আগস্ট মিটারের রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী এক মাসে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।

তবে ২৩৫ ইউনিট ব্যবহারের বিপরীতে ইস্যু করা বিলে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করা হয়। সব মিলিয়ে বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করা না হলে বিলম্ব মাশুলসহ মোট বিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুল যোগ করলে প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল ২ হাজার ৫৬ টাকা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয়। বিল পরিশোধের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। এতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, “এটি শুধু ভূতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের গাফিলতির কারণে তাকে দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।”

পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আড়পাড়া জোনাল অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ভুল সংশোধন করে ১ হাজার ৯৬৩ টাকার নতুন বিল দেওয়া হয়। এরপর তিনি সংশোধিত বিলের ওই টাকা পরিশোধ করেন।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম জানান, কম্পিউটারে বিল তৈরির সময় কর্মীদের টাইপিং ভুলের কারণে এ ধরনের অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে। বিষয়টি জানার পর গ্রাহককে অফিসে ডেকে এনে বিল সংশোধন করে দেওয়া হয়। পরে তিনি সংশোধিত বিলের ১ হাজার ৯৬৩ টাকা পরিশোধ করেছেন।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামও বিষয়টি টাইপিং ভুলের কারণে হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এসএন