• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ পিএম


সেমিফাইনালেই থামল দেশের দ্রুততম মানব ইমরানুরের এশিয়ান গেমস যাত্রা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৩ পিএম

মিনজো স্পোর্টস পার্কে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমানের দৌড় দেখতে গ্যালারিতে ছিল বাড়তি আগ্রহ। বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন তাকে উৎসাহ দিতে। তবে শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশের এই স্প্রিন্টারকে।

সেমিফাইনালের প্রথম হিটে ৯ নম্বর লেনে দৌড়ান ইমরানুর। শুরুটা ভালো হলেও ৬০ মিটার অতিক্রম করার পর প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০.৪৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে আটজনের মধ্যে সপ্তম হন। ফলে ফাইনালের টিকিট পাননি।

তিনটি সেমিফাইনাল হিট মিলিয়ে ২৪ জন অ্যাথলেটের মধ্যে ইমরানুরের অবস্থান ২১তম। প্রতিটি হিটের শীর্ষ দুইজন এবং তিন হিটের সেরা দুই টাইমিংধারী অ্যাথলেট ফাইনালে জায়গা পান।

এর আগে প্রাথমিক রাউন্ডে ইমরানুর ১০.৪৯ সেকেন্ড সময় করেছিলেন। সেমিফাইনালে নিজের সময় কিছুটা কমিয়ে ১০.৪৪ সেকেন্ড করলেও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় হতাশ তিনি।

ইমরানুর বলেন, ‘বছরের সবচেয়ে বাজে রেস ছিল এটা, নানা কারণে। তবে এমনটা হয়। আর যা-ই হোক না কেন, আমাকে এখান থেকে সামনে এগোতে হবে। আর কী-ই বা বলব… হ্যাঁ, আমি সত্যিই হতাশ।’

ইমরানুরের ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং ১০.১১ সেকেন্ড। চলতি মৌসুমে তার সেরা সময় ১০.২৪ সেকেন্ড। এবার কোনোটিই ছুঁতে না পারার বিষয়ে তিনি বলেন, সব সময় নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করা সম্ভব হয় না।

প্যারিস অলিম্পিকের পর প্রায় দুই বছর ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন ইমরানুর। চলতি বছরই তিনি প্রতিযোগিতামূলক অ্যাথলেটিক্সে ফিরেছেন। তাই এই সময়টাকে ইতিবাচকভাবে দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের স্প্রিন্টিংয়ের বর্তমান অবস্থান নিয়েও কথা বলেন ইংল্যান্ডে বেড়ে ওঠা এই অ্যাথলেট। তার মতে, এশিয়ার শীর্ষ স্প্রিন্টারদের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধান এখনো অনেক। সেমিফাইনালে ওঠাকে নিজের জন্য অর্জন হিসেবে দেখলেও কাঙ্ক্ষিত মানের পারফরম্যান্স দিতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে তার।

ইমরানুর বলেন, ‘আমি সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছি, আর আজকের দিনে এটাই ছিল আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা। আজ আমি এর চেয়ে ভালো দিতে পারতাম না, তবে তা যথেষ্ট ছিল না—আমি আমার আসল মান বা দক্ষতা দেখাতে পারিনি।’

পেশাদার অ্যাথলেট হলেও ইমরানুরকে নিয়মিত চাকরিও করতে হয়। ফলে অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। পূর্ণকালীন অনুশীলনে আরও সময় দিতে পারলে নিজের পারফরম্যান্স উন্নত করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ইমরানুর বলেন, ‘আমি ফুল-টাইম চাকরি করি। চাকরির পেছনে যেমন প্রচুর শক্তি ব্যয় হয়, তেমনি অনুশীলনেও হয়। অনুশীলনের সময় আমার আরও কিছুটা নমনীয়তা দরকার। আমি জানি নতুন ফেডারেশন কিছু সহযোগিতামূলক বিষয় নিয়ে কাজ করবে। দেখা যাক সামনে কী হয়, কারণ এই খেলায় আমার হয়তো আর দুই থেকে তিন বছর সময় আছে।’

এশিয়ান ইনডোরে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণ জিতে বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্সে বড় সাফল্য এনে দিয়েছিলেন ইমরানুর। তবে আউটডোর প্রতিযোগিতায় এখনো পদক জিততে পারেননি তিনি।

নিজের ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ইমরানুর বলেন, ‘একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে আমি সব সময় নিজের খেলায় উন্নতি করতে চাই। আমি জানি এশিয়ান ইনডোরে আমি একটি স্বর্ণপদক পেয়েছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, এশিয়ান পর্যায়ে বাংলাদেশের হয়ে পরবর্তী স্বর্ণপদক কবে আসবে, তা আমি নিশ্চিত নই। আমার জন্য ওটাই ছিল সবচেয়ে গর্বের মুহূর্ত। তবে আমি আরও অনেক কিছু দিতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয় সামনের এই দু’টি বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এরপর আমি কতটা দিতে পারব, তা জানা নেই।’

/এএসএফ