• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৫ পিএম


ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ এনওসি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:৫৩ পিএম

ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। ইলিশ আমদানির জন্য মৎস্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিল করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব অনাপত্তি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের এ সিদ্ধান্তে ভারতীয় বাজারে ইলিশ কেনার প্রস্তুতি নেওয়া আমদানিকারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কয়েকজন আমদানিকারক ইতোমধ্যে ভারতীয় অংশে ইলিশ কেনার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছিলেন। আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব মাছ নিয়ে নতুন করে সংকটে পড়েছেন তারা।

বেনাপোল স্থলবন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, ইলিশ আমদানির জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি, মাছ কেনা, পরিবহনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে আমদানিকারকদের অর্থ ব্যয় করতে হয়।

হঠাৎ অনাপত্তি সনদ বাতিল হওয়ায় একদিকে তাদের বিনিয়োগ আটকে গেছে, অন্যদিকে ভারতীয় অংশে কেনা মাছ কম দামে ফেরত দেওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, ইলিশ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। অনাপত্তি সনদ পাওয়ার পর ভারতীয় অংশে মাছ কেনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এখন হঠাৎ করে সনদ বাতিল করে আমদানি বন্ধ হওয়ায় আমদানিকারকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমদানিকারকদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মতিয়ার রহমান আরও বলেন, যারা অনুমোদনের ভিত্তিতে ইলিশ কেনার প্রস্তুতি নিয়েছেন বা ইতোমধ্যে মাছ কিনেছেন, আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের বিনিয়োগ আটকে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের একটি চিঠি তাদের কাছে এসেছে। ওই চিঠিতে বেশ কয়েকটি অনাপত্তি সনদ বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর ভারত থেকে ইলিশ আমদানির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

জিয়াউর রহমান বলেন, ইলিশ আমদানির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা এ সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন। যারা আমদানির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও এতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ইলিশ আমদানিকারক রফিকউল্লাহ বলেন, অনুমোদন পাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা ভারতীয় অংশে ইলিশ কেনার প্রস্তুতি নেন। অনেকেই ইতোমধ্যে মাছ কেনার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। হঠাৎ করে অনাপত্তি সনদ বাতিল করে আমদানি বন্ধ করে দেওয়ায় এখন তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভারতীয় বাজারে কেনা ইলিশ সময়মতো বাংলাদেশে আনতে না পারলে কম দামে ফেরত দিতে হবে। এতে মাছের দামের পাশাপাশি পরিবহন ও অন্যান্য খরচও লোকসানে পরিণত হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ হওয়ার ফলে শুধু আমদানিকারকরাই নয়, সংশ্লিষ্ট পরিবহন, কাস্টমস ক্লিয়ারিংসহ অন্যান্য ব্যবসাও এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।

/এএসএফ