• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ এএম


স্বামীকে ইতালিতে রেখে দেশে ফিরে প্রেমিককে বিয়ে ৪ সন্তানের জননীর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ আগস্ট ২০২৬ ৯:১৩ পিএম

ইতালি প্রবাসী স্বামীকে রেখে দেশে ফিরে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের মুন্নি আক্তার জেসমিন নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। স্বামীকে তালাক না দিয়েই প্রেমিককে বিয়ে করেছেন চার সন্তানের এই জননী। একই সঙ্গে স্বামীর দেওয়া ২৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ অর্থসহ প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় মুন্নির বিরুদ্ধে রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন প্রবাসী জাকির হোসেনের বোন মারুফা বেগম। অভিযোগে পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে এবং প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।ভুক্তভোগী জাকির হোসেন উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের উত্তর রায়পুর এলাকার আলী হায়দারের ছেলে। অভিযুক্ত মুন্নি তার স্ত্রী। তিনি একই উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা গ্রামের নুর উদ্দিনের মেয়ে।মারুফার অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২২ বছর আগে পারিবারিকভাবে জাকির ও মুন্নির বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান রয়েছে। ২০০৯ সালে জাকির তার স্ত্রী মুন্নিকে ইতালিতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানের সময় মুন্নি মোবাইল ফোনে বাংলাদেশি একাধিক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়।প্রায় দুই মাস আগে বাবার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মুন্নি দেশে ফিরে আসেন। এ সময় তিনি দুই সন্তানকেও সঙ্গে নিয়ে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকে জাকিরের সঙ্গে তিনি আর যোগাযোগ রাখেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।পরে রায়পুরের বামনী ইউনিয়নের পূর্ব কাঞ্চনপুর এলাকার বাসিন্দা সৌরভ হোসেন চুট্টুকে মুন্নি বিয়ে করেন। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, সৌরভের সঙ্গে মুন্নির আগে থেকেই পরকীয়া সম্পর্ক ছিল।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জাকিরকে তালাক না দিয়েই সৌরভকে বিয়ে করেছেন মুন্নি। এ ছাড়া ইতালি থেকে দেশে ফেরার সময় জাকিরের দেওয়া ২৫ ভরি স্বর্ণ, নগদ অর্থ এবং ব্যাংকের এটিএম কার্ড নিয়ে আসেন তিনি। এসবের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।মারুফা আক্তার বলেন, মুন্নি তার ভাইকে তালাক দেননি। এরপরও তিনি পরকীয়া প্রেমিককে বিয়ে করেছেন। তার অভিযোগ, মুন্নি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় মুন্নির পরিবারের লোকজনও জড়িত বলে দাবি করেন তিনি। তাদের কারণে দুই ভাতিজা ও ভাতিজি অসহায় হয়ে পড়েছে এবং তার ভাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান মারুফা। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুন্নি আক্তার জেসমিন। তিনি বলেন, জাকির তাকে ইতালিতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। এ কারণে তিনি অন্য একজনকে বিয়ে করেছেন। কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে জাকিরকে তালাক না দিয়েই বিয়ে করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মুন্নি।রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/বিএসএস