• ঢাকা
  • সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৪ এএম


মাদুরোর প/ত/নের পর ভেনেজুয়েলার অর্ধেক তেলই যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ১০:২৩ পিএম

ভেনেজুয়েলার তেলবাজারে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দেশটির মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় অর্ধেক এখন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে ভেনেজুয়েলা। এর মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি ব্যারেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে দেশটির নতুন সরকার।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এক শিল্প সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কাইল হস্টভেইট। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের এমন কিছু শোধনাগারে যাচ্ছে, যেগুলো বিশেষভাবে এ ধরনের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার জন্য তৈরি।তবে কয়েক মাস আগেও পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছিল। সে সময় দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন মাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। বর্তমানে সেই পরিমাণ বেড়ে পাঁচ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছে।বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রমাণিত তেলের মজুতের পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল। বিশ্বের মোট প্রমাণিত তেলের মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশই ভেনেজুয়েলার দখলে।ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল তুলনামূলকভাবে ভারী এবং এতে সালফারের পরিমাণ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের অনেক শোধনাগার এমন ধরনের তেল প্রক্রিয়াজাত করার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি বাড়ায় এসব শোধনাগার সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে।ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়াতেও যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করছে বলে জানিয়েছেন হস্টভেইট। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন এক লাখ ব্যারেলের বেশি ন্যাফথা বা হালকা পেট্রোলিয়ামজাত তরল ভেনেজুয়েলায় পাঠাচ্ছে। ভারী অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহারের জন্য এসব তরল পাঠানো হচ্ছে। এই ব্যবস্থাকে দুই দেশের মধ্যে ‘জ্বালানি খাতে ভালো অংশীদারত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন হস্টভেইট।এদিকে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর ভাইস প্রেসিডেন্ট জোভানি মার্তিনেজও দেশটির তেল উৎপাদন বাড়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগস্টের শেষ নাগাদ ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন ১২ লাখ ৪৫ হাজার ব্যারেলে পৌঁছাবে। চলতি বছরে দেশটির তেল রপ্তানি ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ক্ষমতায় আসেন মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। এর পর থেকেই দেশটির তেল খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সে সময় বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রই পরিচালনা করবে এবং দেশটির বিশাল তেলের মজুত কাজে লাগানো হবে।এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির অর্থ এমন একটি হিসাবে জমা হবে, যার ওপর ওয়াশিংটনের নজরদারি থাকবে। কারাকাসকে ওই হিসাব থেকে মাসিক বাজেটের জন্য অর্থ চাইতে হবে। কোন খাতে সেই অর্থ ব্যবহার করা যাবে, সেটিও যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারণ করবে।তবে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে যুক্তরাষ্ট্র কত অর্থ পাচ্ছে এবং সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে। দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ১৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে।ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, প্রকৃত অঙ্ক আরও বেশি। তবে তাঁর প্রশাসন এখন এই অর্থের বড় অংশ কোথায় ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

/বিএসএস