• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম


বৃষ্টিতে আবারও পানিব’ন্দি চট্টগ্রাম, জলাব’দ্ধতায় চ’রম ভোগা’ন্তি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ৭:৪৭ পিএম

টানা বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে চট্টগ্রাম নগর। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি পানিতে তলিয়ে যায়। হালিশহর, কাতালগঞ্জ, হামজারবাগ, মুরাদপুর, বিবিরহাট, চকবাজার, কাপাসগোলা ও রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬৭ মিলিমিটারে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নগরের জলাবদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি রয়েছে।

নগরের বিভিন্ন এলাকায় কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি জমেছে। এতে সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে প্রধান সড়কগুলোতে গণপরিবহনের সংখ্যাও কমে গেছে। এই সুযোগে রিকশা ও ছোট যানবাহনের চালকেরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নগরবাসী।

বিবিরহাট এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘বাসার সামনে পানি। অফিস তো এসব বুঝবে না, অফিসে যেতে হবে। ২০ টাকার রিকশা ভাড়া এখন ৪০ টাকা দিয়ে এলাম। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।’

হামজারবাগ এলাকায় গাড়ির জন্য অপেক্ষায় থাকা চাকরিজীবী আজগর আলী বলেন, গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে উঠছেন। পাশাপাশি সড়কে পানি জমে থাকায় যান চলাচলেও নানা সমস্যা হচ্ছে।

জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। নিউমার্কেট এলাকার নুপুর মার্কেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে বই ভিজে নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে নগরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি এবং পানি নিষ্কাশনে সিটি করপোরেশনের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহম্মদ মঈনুদ্দিন জানান, তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করছেন। প্রকল্পের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই প্রতিবছর একই এলাকাগুলো আবার পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে পানি সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নগরের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা যে শুধু সাময়িকভাবে পানি সরিয়ে নেওয়ার বিষয় নয়, তা ফের স্পষ্ট হয়েছে। নগরবাসীর মতে, স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হলে সমন্বিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার প্রধান ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

/এসএন