• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১০ পিএম


এস আলমদের ফেরার পথ বন্ধ, ব্যাংক আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৯ পিএম

ব্যাংক খাতে বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপসহ সংকটাপন্ন ব্যাংকের পুরোনো মালিকদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার আইনি সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার। ব্যাংক পুনর্গঠন ও সংকটাপন্ন ব্যাংক সচল রাখার জন্য ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’-এ যুক্ত করা বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে রেজুলেশন বা একীভূতকরণের আওতায় যাওয়া কোনো ব্যাংকের আগের মালিক বা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী বিশেষ কিছু শর্ত পূরণ করে সেই ব্যাংকের মালিকানা, সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা আর থাকছে না।

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ব্যাংক রেজুলেশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে এটি চূড়ান্ত করা হবে।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ব্যাংক খাত সংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ১৮(ক) ধারা যুক্ত হওয়ার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল—যে মালিক বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ব্যাংক সংকটে পড়েছে, তারা যদি পরবর্তীতে অর্থ ফেরত ও নতুন মূলধন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে আবার সেই ব্যাংকের মালিক হতে পারবে কি না।

বিশেষ করে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এখন সরকার ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সেই সম্ভাবনার পথ বন্ধ হতে যাচ্ছে।

যে ধারাটি নিয়ে বিতর্ক

ব্যাংক খাতে বড় ধরনের সংকটের পর দুর্বল ও সংকটাপন্ন ব্যাংক পুনর্গঠনের জন্য ২০২৫ সালে ‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়। পরে সেটি সংশোধন করে ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’ করা হয়।

আইনটি প্রণয়নের সময় নতুন করে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে প্রচলিত রেজুলেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি বাজারভিত্তিক পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল।

অর্থাৎ কোনো ব্যাংককে রেজুলেশনের আওতায় নেওয়ার পরও যদি পুরোনো বা নতুন কোনো উপযুক্ত বিনিয়োগকারী ব্যাংকটির দায়-দায়িত্ব গ্রহণ, মূলধন ঘাটতি পূরণ এবং আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতা দেখাতে পারে, তাহলে তাকে ব্যাংকটির শেয়ার, সম্পদ ও দায় গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল।

এ জন্য আবেদনকারীকে সরকারের বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া আর্থিক সহায়তা ফেরত দেওয়া, নতুন মূলধন বিনিয়োগ, মূলধন ঘাটতি পূরণ, আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের দায় পরিশোধের নিশ্চয়তা এবং ব্যাংকের সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা দেওয়ার মতো শর্ত পূরণ করতে হতো।

সরকারের যুক্তি ছিল, এতে ব্যাংক পুনরুদ্ধারের খরচ কমবে, আমানতকারীরা দ্রুত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং সরকারের ওপর আর্থিক চাপও কমবে।

তবে আইনটি পাস হওয়ার পরই প্রশ্ন ওঠে—ব্যাংক ধ্বংসের জন্য দায়ী পুরোনো মালিকই যদি অর্থের ব্যবস্থা করে আবার মালিকানায় ফিরে আসেন, তাহলে ব্যাংক খাত সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য কী হবে?

এস আলমকে ঘিরেই মূল বিতর্ক

১৮(ক) ধারা নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল এস আলম গ্রুপের নাম। কারণ, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে চারটি—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক—একসময় এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অপর ব্যাংকটি ছিল এক্সিম ব্যাংক, যা নাসা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

গত সরকারের সময়ে এসব ব্যাংকে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ, ঋণ অনিয়ম ও দুর্বল সুশাসনের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা ছিল। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার অবনতি, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট প্রকট হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতিতে পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ১৮(ক) ধারা কার্যকর থাকলে এসব ব্যাংকের আগের নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী কোনো একপর্যায়ে আবার মালিকানায় ফিরতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।

আইনের ভাষায় সুযোগটি শুধু এস আলমের জন্য ছিল না। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে এস আলম গ্রুপের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন। এ কারণেই ধারাটি ব্যাংক খাতে ‘এস আলমের ফেরার পথ’ হিসেবে আলোচিত হতে থাকে।

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি

পাঁচটি ব্যাংকের আর্থিক দুরবস্থার চিত্রও ছিল উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের প্রায় ৭৯ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে ছিল মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট। এসব ব্যাংক সচল রাখতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পথে যেতে হয়েছে।

নতুন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের মধ্যে শেয়ার হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ

১৮(ক) ধারা নিয়ে উদ্বেগ শুধু অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের শীর্ষ সংবাদপত্র সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

গত ৮ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধিদল ধারাটি নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানায়। সংগঠনটির বক্তব্য ছিল, কোনো ব্যাংক সংকটে পড়ার পেছনে যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ভূমিকা রয়েছে, তাদের আবার মালিকানায় ফেরার সুযোগ তৈরি হলে ব্যাংক খাতে জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ দুর্বল হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন

১৮(ক) ধারার পক্ষে সরকারের একটি যুক্তি ছিল—পুরোনো মালিকরা নিজেদের অর্থ দিয়ে ব্যাংকের দায় পরিশোধ ও নতুন মূলধন বিনিয়োগ করে ব্যাংক পুনর্গঠন করতে পারলে সরকারের আর্থিক চাপ কমবে।

তবে এর বিপরীতে অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন ছিল, এত বিপুল অর্থ তারা কোথা থেকে আনবেন। যদি অন্য কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেই অর্থ দিয়ে আবার ব্যাংকের মালিকানা নেওয়া হয়, তাহলে সংকটের মূল কারণ দূর হবে না। বরং একটি ব্যাংকের সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে অন্য ব্যাংকও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এ ছাড়া যে ব্যবস্থাপনা বা মালিকানার সময় ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়েছে, তাদের হাতে আবার একই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গেলে আগের সমস্যাগুলো ফিরে আসবে না—এর নিশ্চয়তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল।

কেন ধারা বাতিল করা হচ্ছে

মন্ত্রিসভার অনুমোদিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ১৮(ক) ধারায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন করেনি। অর্থাৎ যে বিকল্প ব্যবস্থাটি তৈরি করা হয়েছিল, সেটি বাস্তবে কার্যকর হওয়ার মতো কোনো আবেদনকারী পাওয়া যায়নি।

ফলে সরকার মনে করছে, ধারাটি আইনে রেখে দেওয়ার আর প্রয়োজন নেই।

তবে এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য আরও বড়। ধারা বাতিলের মধ্য দিয়ে সরকার কার্যত একটি নীতিগত অবস্থান নিচ্ছে—সংকটে পড়া ব্যাংকের পুরোনো মালিককে ফিরিয়ে এনে ব্যাংক পুনর্গঠনের চেয়ে নতুন মালিকানা, নতুন ব্যবস্থাপনা এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক তদারকির মাধ্যমে ব্যাংক খাত পুনর্গঠন করা হবে।

এস আলমের ক্ষেত্রে কী অর্থ দাঁড়াচ্ছে

এস আলম গ্রুপকে ঘিরে ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও অনুসন্ধান চলছে। সরকারি বিভিন্ন পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, গ্রুপটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল অর্থের লেনদেন ও ঋণ নেওয়ার তথ্য বিভিন্ন অনুসন্ধান ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া ব্যাংক খাত থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ ও ফ্রিজ করার কার্যক্রম চলছে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত এস আলমসহ বিতর্কিত মালিকানাগুলোর জন্য শুধু একটি ব্যাংকে ফেরার পথ বন্ধ করছে না; বরং ব্যাংক খাতে মালিকানা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে নীতিগতভাবেই কঠিন করে দিচ্ছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত, মামলা বা সম্পদ উদ্ধারের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যাবে। সেগুলো আলাদা আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া। ১৮(ক) ধারা বাতিলের সরাসরি প্রভাব হলো—রেজুলেশনের আওতায় যাওয়া ব্যাংকের মালিকানা পুনরুদ্ধারের বিশেষ আইনি সুযোগ আর থাকছে না।

ব্যাংক খাত সংস্কারে নতুন বার্তা

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান সংকট শুধু খেলাপি ঋণের সমস্যা নয়। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্বল সুশাসন, পরিচালনা পর্ষদের ওপর প্রভাব, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, একক বা গোষ্ঠীগত নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং নিয়ন্ত্রক তদারকির ঘাটতিও জড়িত।

ফলে ব্যাংক সংস্কারের বড় প্রশ্ন হলো—শুধু দুর্বল ব্যাংককে বাঁচানো হবে, নাকি দুর্বল ব্যাংক তৈরির পেছনে থাকা ব্যবস্থাকেও পরিবর্তন করা হবে। ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত দ্বিতীয় পথের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে তিনি সাধুবাদ জানান। তার মতে, ব্যাংক কোম্পানি আইনে ১৮(ক) ধারা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। এ ধারা সংযোজনের ফলে ব্যাংক খাতে নানা ধরনের জটিলতা ও সমস্যা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৮(ক) ধারা বাতিলের ফলে ব্যাংক খাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়। তবে বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে, তা কাটিয়ে উঠতে শুধু এই ধারা বাতিল করাই যথেষ্ট নয়। ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধার ও শক্তিশালী করতে সরকারের আরও বেশ কিছু কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা, সুশাসন ও ব্যবস্থাপনায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আমানতকারী ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

সব মিলিয়ে, ১৮(ক) ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তকে শুধু একটি আইনি সংশোধন হিসেবে দেখলে এর গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা যাবে না। ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল সুশাসনের পর রাষ্ট্র এখন যে বার্তা দিতে চাইছে, তা হলো—একবার কোনো ব্যাংক রেজুলেশনের আওতায় গেলে পুরোনো মালিকানা কাঠামোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পথ সহজ রাখা হবে না।

বিশেষ করে যেসব গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংক বড় ধরনের সংকটে পড়েছে, তাদের পুনরায় একই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনা বন্ধ করাই এখন সরকারের নীতিগত অবস্থান। এস আলম গ্রুপকে ঘিরে যে বিতর্ক সবচেয়ে বেশি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে ১৮(ক) ধারা বাতিলের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো—ব্যাংক খাতে আগের মালিকানায় ফেরার যে বিশেষ আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেই দরজা এখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

তবে এটি ব্যাংক খাত সংস্কারের শেষ ধাপ নয়। একীভূত ব্যাংকগুলোকে লাভজনক ও টেকসই করা, খেলাপি ঋণ আদায়, অনিয়মের উৎস শনাক্ত করা, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, নতুন ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের সংকট ঠেকানো—এসবই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

/এএসএফ