মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং উপসাগরীয় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। শুক্রবার (৭ আগস্ট) মক্কায় সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ এই তিন দেশ নিজেদের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সই করে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটে। এরপর ইরান এবং তাদের মিত্ররা সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে। এর ফলে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কার্যত ব্যাহত হয়ে পড়ে।চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এই প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য। এতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে বাকি দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সে অনুযায়ী যৌথভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।তুরস্কের এক কর্মকর্তা বলেন, এই চুক্তি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়।এদিকে সৌদিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ সাগের বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বর্তমান চরম অনিশ্চয়তার সময়ে মুসলিম বিশ্বের তিনটি প্রভাবশালী দেশের এই ঐক্য নিরাপত্তা ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়েরই প্রতিফলন।উল্লেখ্য, তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির অধিকারী। সৌদি আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম সম্পদশালী রাষ্ট্র এবং পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী মুসলিম দেশ।
সূত্র: রয়টার্স
/বিএসএস