• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৫ পিএম


আমার আর কোনও উপায় নেই : ডোনাল্ড ট্রাম্প

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ আগস্ট ২০২৬ ৮:৪০ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও তেহরানের পক্ষ থেকে আলোচনার অনুরোধ আসায় তিনি সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে কূটনৈতিক পথ বেছে নেন।ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে ইরানি কর্মকর্তারা যোগাযোগ করে আলোচনার সুযোগ চাইলে তিনি তাতে সম্মতি দেন। তার ভাষায়, “আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলা চালাতে যাচ্ছিলাম। তখন তারা আমাকে ফোন করে খুব ভদ্রভাবে বলল, ‘দয়া করে, আমরা কি কথা বলতে পারি?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, আমরা কথা বলতে পারি। চলুন, এবার বিষয়টির সমাধান করি।’”তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি আবারও আলোচনা থেকে সরে আসে, তাহলে দেশটিকে কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।ট্রাম্প বলেন, “তারা যদি আবারও পিছু হটে, তাহলে খুব কঠোরভাবে আঘাত করা হবে। তারা এটা জানে, বোঝেও। আমার আর কোনো উপায় নেই। ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। বিষয়টি খুবই সহজ।”মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে বর্তমানে “খুব ভালো আলোচনা” চলছে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, তেহরান এখনও প্রকাশ্যে এ অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেনি।তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কার্যকর পদক্ষেপ। তারা সমঝোতা করতে চায়। দেখা যাক কী হয়। যদি তারা সমঝোতা না করে, তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক হবে।”ট্রাম্প আরও জানান, মঙ্গলবার সারাদিনই দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, “আজ সারাদিন আলোচনা হয়েছে এবং সবকিছু খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। যদি হরমুজ প্রণালি খুলে যায় আর আমাদের মধ্যে কোনো উত্তেজনা না থাকে, তাহলে জ্বালানির দাম কমে প্রতি গ্যালন ২ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে আসতে পারে।”এ সময় তিনি তেল কোম্পানিগুলোকেও জ্বালানির দাম কমানোর আহ্বান জানান।পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা “খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে” এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ওয়াশিংটন–তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (৫ আগস্ট) এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে তিনি দ্রুত একটি সমঝোতা হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।গত ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা থাকা দেশগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান।এরপর এপ্রিল মাসে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারকেও সই করে উভয় পক্ষ, যার লক্ষ্য ছিল সামরিক সংঘাতের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা। তবে গত মাসে সেই সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকে। পরে নতুন করে আলোচনা শুরুর খবরের মধ্যেই ট্রাম্প আকস্মিকভাবে বোমা হামলা বন্ধের ঘোষণা দেন।

/বিএসএস