• ঢাকা
  • বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম


খাবার খেতে খেতেও ঘু/ষের লেনদেন! গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়ল রেকর্ড কিপার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ আগস্ট ২০২৬ ৪:০০ পিএম

জমির দলিল নিবন্ধন, নকল উত্তোলন এবং রেকর্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ—এমন অভিযোগ উঠেছে। সেবাপ্রার্থীদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি অফিস চলাকালীন খাবার খাওয়ার সময়ও ঘুষের টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা কিছু দৃশ্যকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ জমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে আসেন। তবে সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, সরকারি নিয়মে আবেদন করলেও অনেক সময় কাজ এগোয় না। দ্রুত সেবা পাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অফিসের রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরার বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে খাবার খাওয়ার সময় টেবিলে বসেই তার টাকা নেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে রেজিস্ট্রার অফিসে একটি অসাধু চক্র ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ অকারণে বিলম্বিত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাপ্রার্থীদের মতে, জমি-সংক্রান্ত জরুরি কাজের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করেন। ভোগান্তির আশঙ্কায় অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগও করতে চান না। ফলে বছরের পর বছর ধরে অনিয়মের এই সংস্কৃতি চলতে থাকছে।

তাদের দাবি, সরকারি সেবার নামে ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান তারা।

অভিযোগের বিষয়ে রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরা মুঠোফোনে বলেন, তিনি কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেননি। তার দাবি, খাবার খাওয়ার সময় এক ব্যক্তি চারটি জমির দলিলের নকল উত্তোলনের জন্য তার কাছে আসেন এবং চারটি নকলের সরকারি ফি বাবদ ৪ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। এর বাইরে তিনি কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে কেউ অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে থাকলে এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, রেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এবং গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য প্রকাশের পর বিষয়টি জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/এসএন