গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীরচালা এলাকায় এক তরুণের শারীরিক পরিবর্তনের ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবার ও চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমোনজনিত শারীরিক পরিবর্তনের কারণে নারী হিসেবে বেড়ে ওঠা কেয়া আক্তার বর্তমানে পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন করছেন। ইতোমধ্যে তার নাম পরিবর্তন করে কাবির রাখা হয়েছে এবং জন্মনিবন্ধনও সংশোধন করা হয়েছে।ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকেই কাবিরকে একনজর দেখতে তার বাড়িতে স্থানীয় শত শত মানুষের ভিড় দেখা যায়।পরিবারের সদস্যরা জানান, কামরাঙ্গীরচালা গ্রামের বাসিন্দা কেয়া আক্তার স্থানীয় ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ২০২৫ সাল থেকে তার শরীরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, এটি হরমোনজনিত শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। পরবর্তীতে পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হলে তিনি পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন শুরু করেন।কাবিরের মা কনিকা ইসলাম জানান, মেয়ের বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই তিনি আপত্তি জানাতেন। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে নিজের শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি খুলে বলেন। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে হরমোনজনিত পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। সেই অনুযায়ী সম্প্রতি তার নাম পরিবর্তন করে কাবির রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সংশোধন করা হয়েছে।কাবির বলেন, ২০২৫ সাল থেকেই তিনি নিজের শরীরে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করেন। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পুরো বিষয়টি পরিবারকে জানান। তার ভাষ্য, আগে নিয়মিত মাসিক হলেও বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে গেছে এবং শরীরে পুরুষের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় বিষয়টিকে তিনি স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছেন।ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, কাবির তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন সবাই তাকে মেয়ে হিসেবেই চিনতেন। পরে পরিবারের কাছ থেকে শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে পারেন। তার মতে, এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয় এবং পরিবার চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অনুসরণ করছে।এদিকে কাবিরের পরিবার সমাজের মানুষের প্রতি কৌতূহলের পরিবর্তে মানবিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, শারীরিক পরিবর্তনের এই ঘটনাকে ঘিরে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা না করে সহমর্মিতার সঙ্গে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
/বিএসএস