• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম


ট্রাম্পকে চাপে ফেলতে ইরানের নতুন কৌশল

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ আগস্ট ২০২৬ ৮:১২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক নৌপথ, জ্বালানি অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের শর্তে আনতে চায় ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সামরিক সংঘাতে জয়ের চেয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেই ওয়াশিংটনের অবস্থান নরম করার পরিকল্পনা নিয়েছে তেহরান।ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক মাইকেল নাইটস বলেন, ইরানের লক্ষ্য হলো সংঘাতের মূল্য এমনভাবে বাড়িয়ে তোলা, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে তেহরানের শর্ত বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এখন শুধু এই প্রণালিই নয়, লোহিত সাগর এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোকেও সম্ভাব্য চাপের কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডারদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়াতে চান না। তাই চাপ বাড়াতে পারলে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প সমঝোতায় যেতে বাধ্য হবেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, সামরিক চাপ বজায় রাখলে ইরান আলোচনায় ফিরবে।ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি চালু রাখার বিষয়ে সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় হামলা স্থগিত রেখে সোমবার আলোচনার কথা বললেও তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, নমনীয়তা দেখালে ওয়াশিংটনের চাপ আরও বাড়ে। তাই কার্যকর চাপ সৃষ্টি না করে আলোচনায় বসার প্রশ্নই আসে না।ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের মাইকেল সিংয়ের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই তেহরানের মূল লক্ষ্য। আর সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যালান আয়ারের মতে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সামরিক হামলা বন্ধে চাপ সৃষ্টি করতেই ইরান এই প্রতিরক্ষামূলক পাল্টা কৌশল গ্রহণ করেছে।এদিকে হরমুজ প্রণালির পরিচালনা নিয়ে ওমান ব্যবহারকারী ফি নির্ধারণের একটি প্রস্তাব দিলেও ইরান পুরো প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও সেবামূল্য আদায়ের অধিকার দাবি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।মাইকেল নাইটস আরও বলেন, ইউরোপের ‘অ্যাসপাইডস’ মিশনের আদলে নতুন সৌদি নেতৃত্বাধীন একটি জোট সরাসরি ইরানের মুখোমুখি হওয়ার বদলে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে টহল জোরদারে মনোযোগ দিচ্ছে।কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশ্লেষক রে তাকেইয়ের মতে, উভয় পক্ষই ধাপে ধাপে সংঘাত বাড়াচ্ছে। তবে দরকষাকষির মূল শর্ত নির্ধারণে ইরানই প্রাধান্য পেতে চায়। তেহরানের বিশ্বাস, দীর্ঘ সময় অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং সেই সুবিধাকেই তারা কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে চায়।

সূত্র: রয়টার্স