• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম


গ্রামে দিনে ১০–১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই

কয়লা-তেল সংকটে বাড়ছে লোডশেডিং

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ২:০৬ পিএম

কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের তীব্র সংকটে দেশজুড়ে লোডশেডিং বেড়েছে। গরম শুরু হতেই পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে, বিশেষ করে ঢাকার বাইরে গ্রামাঞ্চলে দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় দেশে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। ওই সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট, আর উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৩২৪ মেগাওয়াট। পরে বিকেলে কিছুটা উৎপাদন বাড়ায় ঘাটতি কমে ৯০০ মেগাওয়াটে নামে।

গ্রামে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি

রাজধানীর বাইরে অনেক এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন। গরমে এ পরিস্থিতি শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য আরও কষ্টকর হয়ে উঠছে।

অর্থসংকটে জ্বালানি কিনতে পারছে না পিডিবি

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে কয়লা ও ফার্নেস অয়েল কেনার অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না।

সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে পিডিবির বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি। ফলে অনেক কেন্দ্র উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ রয়েছে।

কয়লা সংকটে উৎপাদন কমে গেছে

কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। বাঁশখালী এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিপরীতে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করছে। একইভাবে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রও উল্লেখযোগ্যভাবে উৎপাদন কমিয়েছে। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) কেএমএম রেসালত রাজীব বলেন, সাধারণত কয়লা আমদানি হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। এ বছর ওই দেশের সরকার কয়লা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ইস্যু তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে মার্চের পর কয়লা পাওয়া যায়নি। তাই পুরো উৎপাদন করতে পারছে না মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র।

ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবেও সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

তেলভিত্তিক কেন্দ্রেও চাপ

ফার্নেস অয়েলের দাম বিশ্ববাজারে দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেড়ে প্রায় ২৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগে ছিল প্রায় ২০ টাকা।

একই সময়ে সরকার কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করায় পিডিবির লোকসানও বাড়ছে।

সামনে আরও সংকটের শঙ্কা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থসংকট দ্রুত সমাধান না হলে মে মাসে লোডশেডিং ২ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এপ্রিলের শেষ থেকে জুলাই পর্যন্ত তীব্র গরমের পূর্বাভাস থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

জ্বালানি সংকট, আর্থিক চাপ ও বাড়তি চাহিদার সমন্বয়ে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন নাজুক অবস্থায়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামনে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।