ভারতে চলমান আন্দোলনের দাবিগুলো মেনে না নিলে রাজধানী দিল্লিতে আরও বৃহত্তর গণসমাবেশের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, সরকার দাবি উপেক্ষা করলে লাখ লাখ মানুষ দিল্লিতে এসে আন্দোলনে যোগ দেবে।বুধবার সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “এবার আমরা আর চুপ করে হাত গুটিয়ে বসে থাকব না।”
এদিকে সিজেপির ডাকে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে বুধবারও হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রাজধানীর ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি কমেনি।শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযানের ঘটনায় মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য ডিম্পল যাদব।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এটিই কি বিজেপির সেই ‘রামরাজ্য’, যেখানে শিক্ষার্থীদের পেটানো হয় এবং মেয়েদের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়?”অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদের আটকের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আসাম, কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ, জম্মু ও কাশ্মীর, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, হরিয়ানা ও ঝাড়খণ্ডসহ বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের নেতাকর্মী ও তরুণরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন।ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর জেরে ২০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে সিজেপি। ২৮ জুন এই আন্দোলনে যোগ দেন লাদাখের অধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক।
সেদিন থেকেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তিনি আমরণ অনশন শুরু করেন।এর ধারাবাহিকতায় গত সোমবার সংসদ ভবনের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু হলে আন্দোলনকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে দিল্লি পুলিশ। এতে বহু মানুষ আহত হন এবং অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে পরদিনও আগ্রহ দেখায়নি মোদি সরকার।
এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা।পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় এবং রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে আটক করে। কয়েক ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আটক হওয়া আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাকেও পরে মুক্তি দেওয়া হয়।
/বিএসএস