পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখা যায়—এমন যেকোনো পোশাক বা আবরণ নিষিদ্ধ করে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে আইনটি ‘বোরকা আইন’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। আইনটি মূলত মুখ ঢাকা নেকাব বা বোরকা পরা মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করেই করা হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও হোসে সেগুরো বলেন, মানব পরিচয় ও মানুষের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখকে একটি কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
ইউরো নিউজের তথ্যমতে, নতুন আইনে জনসমক্ষে মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে কিংবা পরিচয় গোপন করতে পারে—এমন যেকোনো ধরনের পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যগত, পেশাগত, শৈল্পিক ও আবহাওয়াজনিত কারণে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
এ ছাড়া উপাসনালয়, কূটনৈতিক মিশন এবং বিমানের ভেতরেও এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স বা মূল্যের কারণে কাউকে জোর করে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করাও আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইন ভঙ্গ করলে ১৫০ ইউরো থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সেগুরো স্বীকার করেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। গত জুলাই মাসে ক্ষমতাসীন দক্ষিণপন্থী জোট এবং উগ্র-ডানপন্থী দলগুলোর সমর্থনে পর্তুগালের পার্লামেন্টে বিলটি পাস হয়। অন্যদিকে বামপন্থী দলগুলো বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দেয়।
তবে উগ্র-ডানপন্থী চেগা দলের প্রস্তাবিত এই বিলটি নিয়ে দেশটির বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হয়। পর্তুগিজ বার অ্যাসোসিয়েশন, পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের উচ্চ পরিষদ এবং পর্তুগিজ উইমেনস ল ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন বিলটির সমালোচনা করে এটি অসাংবিধানিক হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল।
মধ্য-বামপন্থী সোশিয়ালিস্ট পার্টি (PS), গ্রিন-বাম লিভরে এবং পর্তুগিজ কমিউনিস্ট পার্টিও প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে। দলগুলো সতর্ক করে বলেছিল, এই আইন পর্তুগালে ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিয়া বাড়িয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে মধ্য-ডানপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
/এসএন