• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৯ এএম


যুবদল নেতাকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৮ জুলাই ২০২৬ ৬:৫০ পিএম

রাজশাহীর বাগমারায় ডিশ (ক্যাবল টিভি ও ইন্টারনেট) ব্যবসাকে কেন্দ্র করে যুবদলের এক নেতাকে পিটিয়ে আহত করা এবং তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের তিন নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওই নেতা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত আসাদুল ইসলাম (৩৮) গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং উপজেলা কমিটির সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাবল টিভি ও ইন্টারনেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগে অভিযুক্ত তিনজন হলেন—নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন এবং গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম।

আসাদুল ইসলামের অভিযোগ, ঘটনার রাতে তিনি নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। এ সময় পারভেজ রানার নেতৃত্বে চার থেকে পাঁচজন সেখানে এসে ডিশ ব্যবসা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তাঁরা লাঠি ও রড দিয়ে তাঁকে মারধর করেন এবং দোকানে ভাঙচুর চালান। তাঁর দাবি, আগে তাঁর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবি মেনে না নেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলার সময় এক তরুণ ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।

পরদিন সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আসাদুল ইসলাম দাবি করেন, পারভেজ রানার কথিত চাঁদাবাজি ও মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা পারভেজ রানা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আসাদুল ইসলাম ‘ফাহিমা’ নামের এক নারীর ডিশ ব্যবসা অবৈধভাবে দখল করেন। বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারী বিষয়টির সমাধানের জন্য তাঁর সঙ্গে আসাদুলের দোকানে যান। সেখানে আলোচনা চলাকালে আসাদুল ওই নারীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। তাঁরা ওই নারীকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। এছাড়া আসাদুল নিজের ছেলেকে দিয়ে ফেসবুক লাইভে ঘটনার ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহব্বত হোসেন বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনার বিষয়টি জানার পর তিনি এলাকায় খোঁজ নিয়েছেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা অবগত থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ বা মামলা হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: প্রথম আলো

/এএসএফ