• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম


লাবণী-সুগন্ধা সৈকতে ঘূর্ণিবাতাসের তাণ্ডব, আতঙ্কে কক্সবাজার ছাড়লেন অনেক পর্যটক

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৮ জুলাই ২০২৬ ৩:১৯ পিএম

আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার মধ্যেই হঠাৎ সৃষ্ট একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডোর আঘাতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৈকতের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ঘূর্ণিবাতাসের তীব্রতায় সৈকতে থাকা কিটকটের ছাতা-চেয়ার এবং ভাসমান দোকানপাট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হঠাৎ সৃষ্ট এ পরিস্থিতিতে সৈকতে অবস্থান করা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সৈকত ছেড়ে চলে যান। ভয়াবহ এ অভিজ্ঞতার পর একাধিক পর্যটক নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি শেষ করে শুক্রবার রাতেই কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

সৈকতে দায়িত্ব পালনরত সি সেইফ লাইফগার্ড সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের পর থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল। বিকেল তিনটার দিকে সাগরের ওপর কালো মেঘের মতো একটি ঘূর্ণি তৈরি হয়। পরে সেটি প্রবল বাতাস ও পানি সঙ্গে নিয়ে সুগন্ধা পয়েন্টের দিকে ধেয়ে আসে। ঘূর্ণিবাতাসটি সৈকতের ওপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় সামনে থাকা বিভিন্ন বস্তু উড়িয়ে নিয়ে যায়। এ সময় অনেক পর্যটক আতঙ্কের মধ্যেও মোবাইল ফোনে ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

কক্সবাজার সৈকতে কিটকট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান জানান, টর্নেডোটি বেলাভূমির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় অন্তত ৫২টি কাঠের চেয়ার এবং ৬১টি ছাতা উড়ে গিয়ে ভেঙে যায়। পাশাপাশি কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান ও লকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রকৃতির এমন আকস্মিক রূপ দেখে সৈকতে বেড়াতে আসা অনেক পর্যটক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কয়েক দিনের ছুটির পরিকল্পনা নিয়ে কক্সবাজারে এলেও তাদের অনেকেই শুক্রবার সন্ধ্যায়ই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস-এর ডিউটি ম্যানেজার মুশফিকুর রহিম জানান, শুক্রবার সকালে পরিবার নিয়ে হোটেলে ওঠা অনেক পর্যটক বিকেলে সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। কিন্তু টর্নেডোর অভিজ্ঞতার পর তারা হোটেলে ফিরে এসে ছুটি সংক্ষিপ্ত করে পরদিন সকালেই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেও তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি।

দূরপাল্লার বাস পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত কাওসার খান বলেন, ‘সাধারণত শুক্রবার পর্যটকদের কক্সবাজার ছাড়ার চাপ কম থাকে। কিন্তু টর্নেডোর ঘটনার পর আজ সন্ধ্যায় অনেক পর্যটক তড়িঘড়ি করে বাসে ফিরে গেছেন।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, সৈকতে দেখা দেওয়া ঘূর্ণিবাতাসটি মূলত একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। তার ভাষ্য, উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলে শুধু গ্রীষ্মকাল নয়, বছরের যেকোনো সময়ই এ ধরনের টর্নেডো তৈরি হতে পারে। তিনি আরও জানান, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি টর্নেডো যুক্তরাষ্ট্রে দেখা গেলেও বাংলাদেশেও এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের নজির রয়েছে এবং অতীতেও ভয়াবহ টর্নেডোর ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টর্নেডোর ভিডিও দেখার পর বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কোনো পর্যটক ভয় পেয়ে আগেভাগে ফিরে যেতে চাইলে সেটি সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে এ বিষয়ে হোটেল মালিকদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

/এসএন