• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম


বাংলাদেশকে বিশেষ বার্তা? খামেনির কফিনের সামনে বাংলাদেশের জন্য যে আয়াত তিলাওয়াত করা হলো

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ জুলাই ২০২৬ ৬:৩২ পিএম

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণকে ঘিরে তেহরানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও জানাজায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এই অনুষ্ঠানে কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি পবিত্র কোরআনের নির্দিষ্ট আয়াত তিলাওয়াতের একটি বিশেষ আয়োজন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশের প্রতিনিধিদলের সামনে আলাদা আলাদা কোরআনের আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। তাদের ভাষ্য, এটি শুধু ধর্মীয় পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে নয়; বরং প্রতিটি দেশের জন্য ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তাও বহন করেছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি যখন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, তখন সেখানে সূরা আল-আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়।

আয়াতটির বাংলা অর্থ হলো, “মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে। তাদের কেউ কেউ (শাহাদাতবরণ করে) নিজেদের শপথ পূর্ণ করেছে, আর কেউ কেউ (শাহাদাতের) প্রতীক্ষায় আছে। এবং তারা তাদের অঙ্গীকারে সামান্যতমও পরিবর্তন করেনি।”

ইসলামিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়াত নির্বাচনের পেছনে ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। বর্ণনা অনুযায়ী, উহুদের যুদ্ধের আগে বহু সাহাবি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে অঙ্গীকার করেছিলেন যে তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটবেন না এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.)-সহ কয়েকজন সাহাবি শাহাদাতবরণের মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার পূরণ করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সামনে এই আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইরান ঢাকা-তেহরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক অঙ্গীকার রক্ষা, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আদর্শে অবিচল থাকা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান বজায় রাখার বার্তা তুলে ধরতে চেয়েছে।

শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সামনেও ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের সামনে সূরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত পাঠ করা হয়, যেখানে বদর যুদ্ধের দুই পক্ষের প্রসঙ্গ এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মুমিন ও কাফিরদের মুখোমুখি অবস্থানের ইঙ্গিত বহন করে।

অন্যদিকে তুরস্কের প্রতিনিধিদের সামনে সূরা আন-নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, যেখানে ঘরে অবস্থানকারীদের তুলনায় জান-মাল দিয়ে সংগ্রামকারীদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে লেবাননের প্রতিনিধিদলের সামনে ত্যাগের আহ্বান ও কৃপণতা সম্পর্কিত আয়াত পাঠ করা হয়।

হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে সূরা আলে ইমরানের ১৩৯ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, “তোমরা হীনবল হয়ো না, দুঃখিতও হয়ো না; তোমরাই শ্রেষ্ঠ, যদি তোমরা মুমিন হও।” বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়াতের মাধ্যমে তাদের সাহস ও সান্ত্বনার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ইয়েমেনের হুথি প্রতিনিধিদের সামনে সূরা আলে ইমরানের ১৪৬ নম্বর আয়াত, যেখানে শক্তি ও অবিচলতার বিষয়টি উঠে এসেছে, তিলাওয়াত করা হয়। অন্যদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের প্রতিনিধিদের সামনে সূরা আলে ইমরানের ১৫২ নম্বর আয়াত পাঠ করা হয়, যেখানে ক্ষমা ও অনুগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ের এই আয়োজন শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ছিল না। বরং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সামনে নির্বাচিত কোরআনের আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইরান মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অবস্থান, দায়িত্ব এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের মনস্তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

/এসএন