• ঢাকা
  • সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৫ পিএম


গ্রুপের তিন ম্যাচেই ভিনিসিয়ুসের গোল, ‘হেক্সা’ জয়ের ইঙ্গিত পাচ্ছে সেলেসাওরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ জুন ২০২৬ ২:১৯ পিএম

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি দারুণ কাকতালীয় পরিসংখ্যান রয়েছে। সেলেসাওদের হয়ে যেসব ফুটবলার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করেছেন, শেষ পর্যন্ত তাদের হাত ধরেই এসেছে শিরোপা। জাইরজিনিও, রোমারিও, রোনালদো নাজারিও ও রিভালদোর মতো কিংবদন্তিরা অতীতে এই কীর্তি গড়ে বিশ্বকাপ জয়ের অংশীদার হয়েছেন।

উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপে সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার সঙ্গে নিজের নাম জুড়ে দিচ্ছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। গ্রুপ পর্বের টানা তিনটি ম্যাচেই গোল করে তিনি শুধু নিজের দুর্দান্ত ফর্মের জানানই দেননি, ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও আরও জোরালো করে তুলেছেন।

বিশ্বকাপের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৭০ সালে জাইরজিনিও, ১৯৯৪ সালে রোমারিও এবং ২০০২ সালের আসরে রোনালদো ও রিভালদো গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে প্রতিবারই টুর্নামেন্ট শেষে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ট্রফি উঠেছিল ব্রাজিলের হাতে।

সেই পরিসংখ্যান যদি এবারও সত্যি হয়, তাহলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বর্তমান ধারাবাহিকতা ব্রাজিলের জন্য নতুন করে বিশ্বকাপ জয়ের বার্তা বহন করছে বলেই মনে করছেন অনেক ফুটবলপ্রেমী।

চলতি আসরের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করা ম্যাচে ব্রাজিলের একমাত্র গোলটি করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। এরপর হাইতির বিপক্ষে জয়েও স্কোরশিটে নাম লেখান তিনি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের গোলসংখ্যা দাঁড় করান চারটিতে।

এই চার গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে চার গোল করা মাত্র চতুর্থ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন ভিনিসিয়ুস। এর আগে ১৯৭০ সালে জাইরজিনিও, ২০০২ সালে রোনালদো এবং ২০১৪ সালে নেইমার জুনিয়র এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে জাইরজিনিও চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং ইংল্যান্ড ও রোমানিয়ার বিপক্ষে একটি করে গোল করেছিলেন। ২০০২ সালে রোনালদো তুরস্ক ও চীনের বিপক্ষে একটি করে এবং কোস্টারিকার বিপক্ষে দুটি গোল করেন। অন্যদিকে ২০১৪ বিশ্বকাপে নেইমার ক্রোয়েশিয়া ও ক্যামেরুনের বিপক্ষে দুটি করে গোল করলেও মেক্সিকোর বিপক্ষে গোলশূন্য ছিলেন।

এখন ভিনিসিয়ুসের সামনে আরও বড় একটি সুযোগ অপেক্ষা করছে। গ্রুপ পর্বে চার গোল করলেও জাইরজিনিও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ শেষ করেছিলেন সাত গোল নিয়ে। আর ২০০২ সালে আট গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন রোনালদো। ২০১৪ সালের পর অবশ্য বিশ্বকাপে আর কোনো গোল যোগ করতে পারেননি নেইমার।

চলমান বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠা ভিনিসিয়ুস এখন আত্মবিশ্বাস নিয়ে নকআউট পর্বে পা রাখছেন। বর্তমানের এই দুর্দান্ত ছন্দ যদি তিনি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধরে রাখতে পারেন, তাহলে শুধু ব্রাজিলের কিংবদন্তিদের কাতারেই নয়, গোলসংখ্যার দিক থেকেও তাদের ছাড়িয়ে গিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের জন্য আলাদা জায়গা তৈরি করার সুযোগ রয়েছে এই তরুণ তারকার সামনে।

/এসএন