২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে আজ ইউরোপের দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন মুখোমুখি হচ্ছে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাসে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স এবং লামিনে ইয়ামালের স্পেনের এই লড়াইকে অনেকেই ‘ফাইনালের আগে ফাইনাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। কারণ, শিরোপার অন্যতম দুই দাবিদারের একজনের বিশ্বকাপ স্বপ্ন আজই শেষ হয়ে যাবে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের পাশাপাশি পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাসদাতা অপটার সুপারকম্পিউটারও ফ্রান্স ও স্পেনকে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় দুই শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে দেখছে। সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, স্পেনকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে ফ্রান্সের সম্ভাবনা ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে সেই পরিসংখ্যানকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নয় স্পেন শিবির।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পারফরম্যান্সের বিচারে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছে ফ্রান্স। দিদিয়ের দেশমের দল তাদের গতিময় ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রায় সব প্রতিপক্ষকেই চাপে ফেলেছে। ফরাসি আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে ছয় ম্যাচে করেছেন আট গোল। উসমান দেম্বেলের গোলসংখ্যা পাঁচ। এছাড়া মাইকেল ওলিসে, দেজিকে দুয়ে এবং ব্র্যাডলি বার্কোলাও ধারাবাহিকভাবে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছেন।
অন্যদিকে, ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেনও পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে রয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে একটি গোল হজম করার আগে টানা ৬৪৯ মিনিট তাদের জাল অক্ষত ছিল। শক্তিশালী রক্ষণভাগের পাশাপাশি মাঝমাঠে রদ্রি, পেদ্রি ও রুইজদের নিখুঁত পাসিং ফুটবল স্পেনের বড় শক্তি। এছাড়া টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডও স্প্যানিশদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে দুই দলেরই কিছু উদ্বেগ রয়েছে। ফ্রান্সের রক্ষণভাগে কিছু দুর্বলতা থাকলেও স্পেনের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা আক্রমণভাগের ধারাবাহিকতা। মিকেল ওইয়ারসাবাল চারটি গোল করলেও নিয়মিত গোল করতে পারছেন না অন্যরা। শেষ দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তের গোলে দলকে রক্ষা করেছেন মিকেল মেরিনো। দলের সবচেয়ে আলোচিত তারকা লামিনে ইয়ামাল জাদুকরী ফুটবল খেললেও এখনো নিজের সর্বোচ্চ ছন্দে পৌঁছাতে পারেননি।
বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গারের ১৯তম জন্মদিন ছিল গতকাল। আজ ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে পারলে সেটিই হবে তার জন্মদিনের সবচেয়ে বড় উপহার। সেমিফাইনালে ওঠার পর ইয়ামাল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘ফ্রান্সের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া।’
স্পেনের এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সাফল্য। ২০২৪ ইউরো এবং ২০২৫ নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারানোর অভিজ্ঞতা তাদের বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। ওই দুই ম্যাচে ইয়ামাল করেছিলেন তিন গোল।
দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানেও এগিয়ে রয়েছে স্পেন। এখন পর্যন্ত ৩৮টি ম্যাচে স্পেন জিতেছে ১৮টিতে, ফ্রান্সের জয় ১৩টি। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৬ সালে, যেখানে ৩-১ গোলের জয় পেয়েছিল ফ্রান্স।
স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের দুটি দল মুখোমুখি হবে। আমরা জানি ফ্রান্সের শক্তি কোথায়। তারা দ্রুতগতির ফুটবলে স্বচ্ছন্দ। আমাদের নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকতে হবে। এই কৌশলেই আমরা শেষ দুইবার ফ্রান্সকে হারিয়েছি।’
অন্যদিকে, প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সম্মান দেখিয়েছেন ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিম কোনাতে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ফাঁদে পা দেব না। জয়ের আত্মবিশ্বাস আছে, তবে আমরা বিনয়ী। স্পেন ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ভরপুর একটি দল। ইয়ামাল অসাধারণ খেলোয়াড় হলেও আমরা শুধু একজনকে নয়, পুরো স্পেন দলকে মাথায় রেখেই বিশেষ পরিকল্পনা করেছি।’
/এসএন