২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে স্পেন। টুর্নামেন্টে এখনও কোনো গোল না খাওয়া দলটি কোয়ার্টার ফাইনালের আগে নিজেদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, এবারের বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম।
শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায় লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও বেলজিয়াম। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ কোচ বলেন, টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত যেসব দলের বিপক্ষে তারা খেলেছেন, তাদের মধ্যে বেলজিয়ামই সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ।
লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “এটাই হবে এখন পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। বেলজিয়ামের দলে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলার রয়েছে। তারা শিরোপা জয়ের মানসিকতা নিয়ে খেলে। তাই ম্যাচটি আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”
শেষ ষোলোতে প্রতিবেশী পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে শক্তিশালী রক্ষণ, বলের দখল এবং কার্যকর আক্রমণভাগের পারফরম্যান্সে নিজেদের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে লা রোজা।
অন্যদিকে, প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে জয় পাওয়া ফরাসিদের বিপক্ষে সেমিফাইনালে খেলবে স্পেন-বেলজিয়াম ম্যাচের বিজয়ী দল।
তবে সম্ভাব্য সেমিফাইনাল নিয়ে এখনই ভাবতে রাজি নন স্পেন কোচ। তিনি বলেন, “ফ্রান্স ভালো খেলেছে এবং জয়ের যোগ্য ছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের সব মনোযোগ শুধু বেলজিয়াম ম্যাচে।”
স্পেনের আক্রমণভাগে বড় ভরসা ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল। তার সঙ্গে রয়েছেন এবারের বিশ্বকাপে চার গোল করা মিকেল ওইয়ারজাবাল। যদিও ইয়ামাল এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল করেছেন, তবুও তরুণ এই উইঙ্গারের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন দে লা ফুয়েন্তে।
তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত, লামিন আক্রমণে নিজের সামর্থ্য দেখাবে। পর্তুগালের বিপক্ষে সে শুধু আক্রমণেই নয়, রক্ষণেও দারুণ দায়িত্বশীল ছিল। বয়সের তুলনায় তার পরিণত মানসিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
স্পেন কোচের মতে, দলের সাফল্যের মূল ভিত্তি কোনো একক তারকা নন; বরং পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এ প্রসঙ্গে তিনি রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের একটি বিখ্যাত উক্তি তুলে ধরে বলেন, “মৌচাকের জন্য যা ক্ষতিকর, তা মৌমাছির জন্যও ক্ষতিকর।”
তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় ঐক্য, সমন্বয় এবং সম্মিলিত পারফরম্যান্সকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে স্পেন শিবির।
/এসএন