• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম


দাম বাড়ছে, আয় কমছে—চাপে মধ্যবিত্ত, অনিশ্চয়তায় বাজার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২:৫৭ পিএম

একদিকে মানুষের আয় কমছে, অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে পরিবহন ব্যয়সহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা তীব্র চাপে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি, যারা খরচ কমিয়ে বাধ্য হয়ে জীবনযাত্রার মান নিচে নামাচ্ছেন। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও তা এখনো ভোক্তার আয়ের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-এর তথ্য বলছে, মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭১ শতাংশ, যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.২৪ শতাংশ। বিপরীতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.০৯ শতাংশ। ফলে আয়ের তুলনায় ব্যয় বাড়ছে, যা মানুষকে সঞ্চয় ভেঙে বা ঋণ করে চলতে বাধ্য করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে পুষ্টিহীনতা ও শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আয় না বাড়লেও ব্যয় বাড়ছে, ফলে মানুষ টিকে থাকতে সঞ্চয় ভাঙছে বা ঋণ নিচ্ছে। তবে দরিদ্রদের জন্য এই পথও সীমিত।

এদিকে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না, বরং বিদ্যমান চাকরিও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এতে বেকারত্ব বাড়ছে এবং মানুষের আয় আরও কমে যাচ্ছে।

ডলারের দাম বৃদ্ধি, জাহাজ ভাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানি খরচ বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে ট্রাকভাড়া ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে সবজি থেকে শুরু করে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে।

রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২১০ টাকা, যা এক মাস আগে ছিল ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি ৪৩০-৪৪০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে—বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে, আর খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা লিটার দরে।

সবজির দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় কোনো সবজি কেজিপ্রতি ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। মাছের বাজারেও একই অবস্থা—২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে রান্নার গ্যাসের দামও বেড়েছে। ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে বেড়ে ১,৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে তা আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি ব্যয় ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে সিন্ডিকেটও এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে সরাসরি পণ্যমূল্যে প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি বাজারে কঠোর নজরদারির অভাবেও দাম বাড়ছে।

এ অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি অনেকটাই নির্ভর করছে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি বাজারের ওপর।