• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম


এই গ্রীষ্মেই ‘সুপার এল নিনো’ আশঙ্কা, তাপমাত্রা ও দুর্যোগ বাড়ার সতর্কতা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২:৩৩ পিএম

এই গ্রীষ্মে আবারও সক্রিয় হতে পারে এল নিনো, যা এবার অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি ‘সুপার এল নিনো’-তে রূপ নিতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এমনটি হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে এবং ঝড়, খরা ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে এই জলবায়ুগত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাধারণত তাপমাত্রা অন্তত ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হলে তাকে এল নিনো ধরা হয়, যা বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার ওপর বড় প্রভাব ফেলে। এটি সাধারণত কয়েক বছর পরপর ঘটে এবং উত্তর গোলার্ধের বসন্তে শুরু হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

মার্কিন ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মে এল নিনো গঠনের সম্ভাবনা প্রায় ৬২ শতাংশ। আর যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হয়, তখন সেটিকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়—যা গত কয়েক দশকে খুব কমবারই দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এবার এটি অত্যন্ত শক্তিশালী হতে পারে। তাদের মতে, বর্তমান আবহাওয়া ও সমুদ্রের অবস্থা এমন এক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বিশ্ব জলবায়ুতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, ভারত ও দক্ষিণ আমেরিকায় খরা ও তীব্র গরমের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ার কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় আফ্রিকার কিছু দেশে ভয়াবহ খরা এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

এ বিষয়ে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বলছে, সাম্প্রতিক এল নিনো ঘটনাগুলো ইতোমধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তাদের মতে, এল নিনো ও লা নিনার পূর্বাভাস দুর্যোগ মোকাবিলা, কৃষি পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে কিছু সময় লাগলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

সূত্র- দ্য গার্ডিয়ান