• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৬ এএম


ডাকসু ভিপি থেকে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে, না ফেরার দেশে তোফায়েল আহমেদ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ জুন ২০২৬ ৯:১১ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা থেকে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী জাতীয় রাজনীতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া তোফায়েল আহমেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং নয়বারের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ সোমবার (১ জুন) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নাম। ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ, সংসদীয় রাজনীতি এবং মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। তার বাবা ছিলেন মৌলভী আজহার আলী এবং মা ফাতেমা বেগম। ছাত্রজীবন থেকেই তার রাজনৈতিক পথচলার সূচনা হয় এবং ধীরে ধীরে তিনি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেই সময়ে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে তার সক্রিয় নেতৃত্ব তাকে জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।

পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। এরপর মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার পক্ষে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান গড়ে তোলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সময়ে শিল্প, বাণিজ্যসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও প্রভাবশালী ভূমিকা রাখেন।

রাজনীতির নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে শেষ জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, স্পষ্টভাষী অবস্থান এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

/এসএন