• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম


জুলাই আন্দোলনের পরতে পরতে হাসনাত-সারজিসের বে’ঈমানি খুঁজে পাওয়া যাবেঃ রাশেদ খাঁন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৮ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন।

পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘হাসনাত আবদুল্লাহকে সমন্বয়করা হাসিনার আবদুল্লাহ ডাকার সূত্রপাত হয়, ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আবু সাইদ, ওয়াসিম আকরামসহ ৬ জন শহীদের জন্য আয়োজিত গায়েবানা জানাজা ও কর্মসূচিতে নারী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর বর্বর হামলার প্রতিবাদে রিফাত রশিদ একটা প্রতিবাদলিপি লিখে হাসনাত আব্দুল্লাহকে চেক করার জন্য দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ডিজিএফআইয়ের পরামর্শে ওই প্রতিবাদলিপির শেষের দিকে ‘আলোচনার দরজা খোলা আছে’ বাক্যটি যুক্ত করেছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা না করেই তিনি সেটি ফেসবুকে প্রকাশ করেন বলেও দাবি করেন রাশেদ খাঁন।

এ বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘ডিজিএফআইয়ের পরামর্শে হাসনাত আব্দুল্লাহ সেই প্রতিবাদলিপির শেষের দিকে যুক্ত করে দেয় যে, ‘আলোচনার দরজা খোলা আছে’। এমনকি সমন্বয়কদের কারও সাথে আলোচনা না করে সেটি আবার ফেসবুকে পোস্টও করে দেয়। এনিয়ে সমন্বয়কদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা এক পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ স্বীকার করে যে, ডিজিএফআইয়ের পরামর্শে তিনি এ লাইন যুক্ত করেছেন।’

১০ জুলাই কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের পর আন্দোলন স্থগিত করার উদ্যোগ নিয়েও পোস্টে অভিযোগ তোলেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী প্রক্টর ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিমের সঙ্গে বসে ডিজিএফআইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম একটি প্রেস নোট তৈরি করেছিলেন।

এ বিষয়ে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘১০ জুলাই কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের পর ৩ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করার জন্য ঢাবির তৎকালীন সহকারী প্রক্টর, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহিম স্যারের সাথে বসে ডিজিএফআইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রেস নোটও হাসনাত-সারজিস লিখে ফেলেছিল। কিন্তু শাহবাগে হাসনাত-সারজিস উপস্থিত হওয়ার পর অন্যান্য সমন্বয়করা রাজি না হওয়ায় আন্দোলন স্থগিত ঘোষণার মতো সাহস দেখাতে পারেনি এ দুই জুলাই গাদ্দার।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আরও কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করে হাসনাত ও সারজিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ অব্যাহত রাখেন রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, ১৯ জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দিয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করা এবং নাহিদ ও আসিফ গুম হওয়ার পর ডিজিএফআইয়ের গাড়িতে ঘুরে বেড়ানো ও ডিবি হেফাজতে পুকুরপাড়ে বসে জুস খাওয়ার মতো ঘটনাও তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

পোস্টে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ ৬১ দিন গুম থাকা এবং দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন কাটানো সালাহউদ্দিন আহমেদকে শুধু ‘সালাউদ্দিন’ বলে সম্বোধন করে তাঁর বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছিলেন হাসনাত।

এ প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে এভাবে হাসনাত-সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে… ১৯ জুলাই শহীদের রক্ত মারিয়ে আ.লীগের মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক কিংবা নাহিদ-আসিফ গুম হওয়ার পরে ডিজিএফআইয়ের গাড়িতে ঘুরে বেড়ানো ও ডিবি হেফাজতে পুকুরপাড়ে বসে জুস খাওয়া সেই হাসিনার আব্দুল্লাহ যখন ৬১ দিন গুম ও দীর্ঘদিন নির্বাসিত থাকা জনাব সালাউদ্দিন আহমেদকে শুধুমাত্র  ‘সালাউদ্দিন সম্বোধন করে , ‘বিএনপিই কিছুদিন পর সালাউদ্দিনের বিচার করবে’ বলে গালমন্দ করে, তখন বলতে হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি ও শেখ হাসিনার পতনের ক্ষোভ থেকে শেখ হাসিনার দ্বারা গুম হওয়া একজন নেতা সম্পর্কে ওরা এ আক্রোশ লালন করতে পারে।’

/এসএন