• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম


চার উপজেলায় ২৭৪০ হেক্টর ধান পানির নিচে, চরম দুশ্চিন্তায় কৃষক

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৭:৫৫ পিএম

হবিগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলে হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে মাঠের পর মাঠ পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে জেলার চার উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৭৪০ হেক্টর (৬ হাজার ৭৭১ একর) জমির ধান ক্ষতির মুখে পড়েছে। আকস্মিক এই পরিস্থিতিতে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। তাদের ভাষ্য, কয়েক দিনের মধ্যেই ঘরে তোলার কথা ছিল সোনালি ধান; কিন্তু তার আগেই বন্যার পানিতে সব হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের চাপে হাওরের পানি দ্রুত বাড়ছে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।এদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও ভারি বৃষ্টিতে জনজীবনেও নেমে এসেছে দুর্ভোগ। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হওয়ায় অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা—বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। অতিবৃষ্টিতে বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা প্রায় ২৭৪০ হেক্টর জমির পাকা ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ক্ষতির আশঙ্কাও তত বাড়ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।ধান কাটার আগেই ফসল হারানোর শঙ্কায় হতাশ কৃষকরা। সারা বছরের শ্রম, ঋণ ও বিনিয়োগ চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দ্রুত পানি না নামলে ক্ষতি আরও বাড়বে বলে তাদের আশঙ্কা।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে হবিগঞ্জে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে অর্ধেকের কিছু বেশি এবং নন-হাওর এলাকায় মাত্র এক-পঞ্চমাংশ ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ ধান এখনো মাঠে রয়ে গেছে এবং ঝুঁকিতে রয়েছে।চলতি বছর জেলায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৩২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে টানা বৃষ্টি ও পানি বাড়তে থাকলে এ লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। প্রধান নদ খোয়াইয়ের পানি এখনও বিপদসীমার নিচে থাকলেও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, হাওরাঞ্চলের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে; দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও বৃষ্টি চলতে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।