শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের কয়েকজন ক্রিকেটার। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তারা রামিসার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
ভিডিও বার্তায় জাতীয় দলের পেসার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘একটি শিশুর নির্মম মৃত্যু আমাদের সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ছোট্ট রামিসার পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা।’
স্পিনার নাঈম হাসান বলেন, ‘শিশুরা যেন নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সবার দায়িত্ব।’
পেসার এবাদত হোসেন বলেন, ‘আমরা চাই দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’
এদিকে অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘শিশু রামিসার ওপর সংঘটিত নৃশংসতার বিচারের দাবিতে আজ আমরা ঐক্যবদ্ধ।’
বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো আপস নয়। উই ডিমান্ড জাস্টিস (আমরা ন্যায়বিচার দাবি করছি)।’
ভিডিওর শেষ অংশে ‘উই ডিমান্ড জাস্টিস’ স্লোগানে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান তরুণ পেসার নাহিদ রানা, স্পিনার নাঈম হাসান এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক।
ভিডিওর শেষে বিসিবি রামিসার একটি ছবি প্রকাশ করে একটি বার্তাও দেয়। সেখানে বলা হয়, ‘ছোট্ট রামিসার ওপর সংঘটিত জঘন্য অপরাধে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। রামিসা এবং এ ধরনের নির্মম ও অর্থহীন নিষ্ঠুরতার শিকার সব ভুক্তভোগীর জন্য আমাদের হৃদয় রক্তাক্ত। ন্যায়বিচারের দাবিতে আজ আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।’
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় তার খণ্ডিত মাথা। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন সোহেল।