কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর পোশাক থেকে আগে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ফলে পোশাকে মোট চারজনের নমুনা মিলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (১৮ মে) রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে সিআইডিকে চিঠি দিয়ে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে প্রায় এক মাস আগে সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের অস্তিত্বও পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “এটি পুরোপুরি নতুন তথ্য নয়। ২০১৭ সালে তিনজনের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল। এখন আরও একজনের রক্তের বিষয়টি জানা গেছে। এতে সন্দেহভাজনের সংখ্যা চারজনে দাঁড়িয়েছে। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরু থেকেই ধারণা করা হয়, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ডিএনএ রিপোর্টকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি গণমাধ্যমকে জানায়, তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া গেছে।
এর পাশাপাশি তনুর মায়ের সন্দেহের তালিকায় থাকা তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডির একটি দল। তবে সে সময় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সম্প্রতি আবারও আলোচনায় আসে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলা। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
তারা জানান, হাফিজুর রহমানের নমুনা সংগ্রহ করে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনো সেই পরীক্ষার ফল হাতে আসেনি।
হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি অবসর নেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।
/এসএন