গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পাশের মসজিদ থেকে ভেসে আসে জোহরের আজান। সঙ্গে সঙ্গে বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজানের প্রতি সম্মান জানিয়ে ডায়াসে দাঁড়িয়েই প্রায় ছয় মিনিট নীরবে অপেক্ষা করেন তিনি। আজান শেষ হওয়ার পর পুনরায় বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে এ ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুরুতে দেশের আট বিভাগের শ্রেষ্ঠ আটজন গ্রাম পুলিশ সদস্যের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন তিনি। এরপর বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডায়াসে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানানোর পর বক্তব্য শুরু করতে যাচ্ছিলেন তিনি।
ঠিক সেই সময় পাশের একটি মসজিদ থেকে জোহরের আজান ভেসে আসে। ঘড়িতে তখন দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিট। আজানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকেন তারেক রহমান। ডায়াসে দাঁড়িয়েই নীরবে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি। প্রায় ছয় মিনিট পর দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে আজান শেষ হলে আবারও বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।
সারা দেশ থেকে আসা প্রায় ৪০ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্যের অংশগ্রহণে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন, আনুতোষিক ও যাতায়াত ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাদের জন্য মোবাইল ভাতা চালুর কথাও জানান তিনি।
নারীর ক্ষমতায়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে দুজন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দেন তারেক রহমান। পাশাপাশি নারী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়কের নাম ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’ রাখার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে পাঁচ বছর পরপর গ্রাম পুলিশ সদস্যদের একটি করে বাইসাইকেল দেওয়া হয়। এই সময়সীমা কমিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
/এসএন