• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম


ট্রাকচাপায় মায়ের নিথর দেহ থেকে অলৌকিক জন্ম নেয় ফাতেমা, জানে না বাবা-মা বেঁচে নেই

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ জুলাই ২০২৬ ১০:৪৩ পিএম

আজ ১৬ জুলাই। ঠিক চার বছর আগে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে অলৌকিকভাবে পৃথিবীর আলো দেখেছিল শিশু ফাতেমা। সেই শিশুটি আজ চার বছরে পা দিয়েছে।২০২২ সালের ওই দুর্ঘটনায় ঘাতক ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অন্তঃসত্ত্বা রত্না বেগম ও তার স্বামী জাহাঙ্গীর আলম।

হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে সানজিদাও। দুর্ঘটনার পর পিচঢালা সড়কে ছিটকে পড়েন রত্না বেগম। সেই সময় তার গর্ভ ফেটে অলৌকিকভাবে জন্ম নেয় ফাতেমা, যে প্রাণে বেঁচে যায়।বর্তমানে ঢাকার আজিমপুর ছোটমণি নিবাসেই বেড়ে উঠছে ফাতেমা। চার বছরে তার শরীর যেমন বেড়েছে, তেমনি মুখে ফুটেছে কথা। তবে এখনও সে জানে না ‘দুর্ঘটনা’ কিংবা ‘মৃত্যু’ শব্দের প্রকৃত অর্থ। তার শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জানান, ফাতেমার মনে মা-বাবার কোনো স্পষ্ট স্মৃতি নেই।

তবু মাঝেমধ্যেই সে অবুঝ কণ্ঠে প্রশ্ন করে, ‘আমি অ্যাক্সিডেন্ট হইয়া বাচ্চা হইছি, আব্বা আম্মা কই?’দাদা বলেন, এত অল্প বয়সে মা-বাবার মৃত্যুর নির্মম সত্য জানালে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে। তাই এখনও বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। ছোটমণি নিবাসের নিয়ম অনুযায়ী, ছয় বছর বয়স পূর্ণ হলে ফাতেমাকে বাড়িতে এনে নিজের কাছেই বড় করতে পারবেন তিনি। সেই দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন বৃদ্ধ দাদা।ফাতেমার বাবা জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য এবং দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। তার মৃত্যুর পর পরিবারে রেখে যান বৃদ্ধ বাবা-মা, অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ফাতেমা এবং আরও দুই সন্তান— অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাত (১৩) ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী এবাদত (১০)।

বর্তমানে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী দাদার ছোট্ট একটি দোকানের সামান্য আয়ের ওপর নির্ভর করেই কোনো রকমে চলছে পরিবারটির জীবন।এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। লন্ডনে অবস্থানকালে বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফাতেমা ও তার পরিবারের আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। তার নির্দেশনায় সাবেক ছাত্রনেতা নাইমুল করিম লুইনের মাধ্যমে প্রতি মাসে ত্রিশালে পরিবারের বাড়িতে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিবারটির জন্য একটি পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে।

ফাতেমার অলৌকিক জন্মের স্মৃতি ধরে রাখতে তাদের বাড়ির সামনের সড়কের নামকরণ করা হয়েছে ‘ফাতেমা রোড’।বর্তমানে ৬৫ বছর বয়সী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের দুই ছেলেই মারা গেছেন। তিন মেয়ে জীবিত থাকলেও তাদের সবার আর্থিক অবস্থা নাজুক। এরপরও ফাতেমার ফুপুরা নিয়মিত তার খোঁজখবর রাখেন। ঈদুল আজহার পরদিন সর্বশেষ দাদা-দাদি ঢাকায় গিয়ে ফাতেমার সঙ্গে দেখা করেন।

সেদিনও ফাতেমা তার মা-বাবার কথা জানতে চেয়ে জিজ্ঞেস করে, তারা কেমন আছেন।আজিমপুর ছোটমণি নিবাসের উপ-তত্ত্বাবধায়ক তানজিনা আফরিন জানান, জন্মের কয়েকদিন পর থেকেই ফাতেমা তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। দেখতে দেখতে তার বয়স চার বছর হয়ে গেছে। অন্য সব শিশুর মতোই স্বাভাবিক পরিবেশে তার বেড়ে ওঠা হচ্ছে। পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা খাবারের কোনো ঘাটতি নেই। নিয়মিত শিক্ষক ও ধর্মীয় শিক্ষকের মাধ্যমে তার শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। সবার সঙ্গে হেসে-খেলে আনন্দেই বড় হয়ে উঠছে ছোট্ট ফাতেমা।

/বিএসএস