• ঢাকা
  • রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম


পরীক্ষা স্থগিতের দাবি কেন মানা হয়নি, সংসদে প্রশ্ন রুমিন ফারহানার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ জুলাই ২০২৬ ৮:২৭ পিএম

এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এবং বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান বিষয় পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সত্ত্বেও কেন পরীক্ষা এক বা দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, সারা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের মতামত এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে থাকা ভুলের কারণে সংশ্লিষ্ট দুটি প্রশ্নে পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল, কিন্তু সেই দাবি বিবেচনা করা হয়নি। এর প্রতিবাদে ঢাকায় আন্দোলনও হয়েছে। তিনি বলেন, এইচএসসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফলাফলের ওপর একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে অন্তত এক বা দুই দিনের জন্য পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না কেন—এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা চান তিনি।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছিল। দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হয়। তাদের মতামতের ভিত্তিতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে বৃষ্টির পানি জমে গেলে মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রের পাঁচতলা ভবনে পৌঁছে পরীক্ষা নেওয়া হয়। যেসব পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে গিয়েছিল, তাদের বিকল্প পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। পরে এক ঘণ্টা বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করা হয় এবং সেই অনুযায়ী অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে পরীক্ষা স্থগিত বা বিলম্বে নেওয়ার ক্ষমতা স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছিল।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন মডারেশনের প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়। বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলো বিগত সরকারের সময়কার মডারেটরদের তৈরি। তবে ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়া হবে।

/এসএন