• ঢাকা
  • সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম


‘কমিটি নয়, মেধা’—তীব্র বৃষ্টিতে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ডাকসুর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৩ পিএম

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে তীব্র বৃষ্টির মধ্যেও বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ডাকসুর নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল—‘কোটা গেছে যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে’, ‘বাণিজ্য নয় শিক্ষা, শিক্ষা শিক্ষা’, ‘টাকা নয় মেধা, মেধা মেধা’, ‘কমিটি নয় মেধা, মেধা মেধা’, ‘চাচা নয় চাকরি, চাকরি চাকরি’ এবং ‘মামা নয় চাকরি, চাকরি চাকরি’।

বিক্ষোভ সমাবেশে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, এনটিআরসিএর পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিল না করা হলে জুলাই আন্দোলনের চেয়েও শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘এই অন্যায় ও শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের বিরুদ্ধে পুরো ছাত্র সমাজকে আবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের সব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাব, আপনারা প্রত্যেকটি জায়গায় অন্যায্য কমিটি-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে এবং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।’

তিনি বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে যেভাবে আগে স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হতো, সেই ব্যবস্থা আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাতিল করতে হবে।

সরকারের উদ্দেশে ডাকসুর ভিপি বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অন্যায্য সিদ্ধান্ত বাতিল করুন। শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের পেটে লাথি দিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে বাংলাদেশের আপামর ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। জুলাই বিপ্লবে যেভাবে রাজপথে নেমেছিলাম, তার চেয়েও শক্তিশালীভাবে রাজপথে নেমে শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় করব।’

ডাকসুর নেতারা অভিযোগ করেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব, ঘুষ-বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈরাজ্য তৈরি করতে পারে। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ হলে প্রার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রাধান্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা মনে করেন।

তারা আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম ও জাল সনদের অভিযোগ সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আবার স্থানীয় কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলে অনিয়মের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেছে। যারা নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি, তাদের অনেককেই বিভিন্ন দায়িত্বে বসানো হয়েছে। শুধু দলের শীর্ষ নেতাদের কপাল ফিরলে হবে না—এবার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দিয়ে দলের তৃণমূল নেতাদেরও ‘ব্যবস্থা’ করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সর্বমিত্র চাকমা সরকারকে এমন গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

/এএসএফ