• ঢাকা
  • শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৭ এএম


ইরানের দুই নারী ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেলেন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:০৫ পিএম

ইরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় পাওয়া দুই ইরানি নারী ফুটবলার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। তারা হলেন ৩৪ বছর বয়সী আতেফেহ রামেজানিসাদেহ এবং ২২ বছর বয়সী ফাতেমেহ পাসানদিদেহ। বুধবার (৬ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের ব্রিসবেনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেওয়া হয়।নাগরিকত্ব লাভের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আতেফেহ রামেজানিসাদেহ বলেন, এটি তাঁর জীবনের ‘সত্যিই বিশেষ ও অবিস্মরণীয়’ একটি দিন। অন্যদিকে ফাতেমেহ পাসানদিদেহ বলেন, এই মুহূর্তের গুরুত্ব ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, এটি তাঁর জীবনের নতুন সূচনা এবং এমন একটি দেশ, যাকে তিনি গর্বের সঙ্গে নিজের ঘর বলতে পারেন।চলতি বছরের মার্চে নারী এশিয়ান কাপে অংশ নিতে ইরানের জাতীয় দলের সাত সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় যান। সেই দলে ছিলেন রামেজানিসাদেহ ও পাসানদিদেহও। প্রতিযোগিতা চলাকালে অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের মানবিক ভিসা প্রদান করে। পরে সাতজনের মধ্যে পাঁচজন দেশে ফিরে গেলেও এই দুই ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।তাদের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ ছিল উদ্বোধনী ম্যাচে ইরানের জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার ঘটনা। ওই ঘটনার পর তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘটনাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত ইরানি সম্প্রদায়ের দাবির মুখে দেশটির কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ দেয়।মানবিক ভিসা পাওয়ার পর থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল, ভবিষ্যতে তারা অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন। তবে তাদের নাগরিকত্ব প্রদান এমন সময়ে হয়েছে, যখন অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়া সরকার আরও কঠোর ভিসানীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় আশ্রয়প্রার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও আপিলের অধিকার সীমিত করা এবং পর্যটক ভিসাধারীদের পারিবারিক ভিসার আবেদন নিষিদ্ধ করার মতো বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।ব্রিসবেনে আয়োজিত নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। অনুষ্ঠানে দুই ফুটবলারের হাতে নাগরিকত্বের সনদ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় রামেজানিসাদেহ বলেন, ‘আমরা অসংখ্য চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে আজ এখানে পৌঁছেছি। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে আমি গর্বিত এবং গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’বর্তমানে এই দুই ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ার এ-লিগ উইমেনের ক্লাব ব্রিসবেন রোরের সঙ্গে অনুশীলন করছেন। তারা ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়াতেই নিজেদের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তারা যে ঝুঁকি নিয়েছিলেন, তার পর অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় গ্রহণ এবং নাগরিকত্ব লাভ শুধু তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেনি; বরং এটি ইরানের ক্রীড়াঙ্গন, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল বাস্তবতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিবিসি

/বিএসএস