• ঢাকা
  • শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ এএম


ভারতে অসুস্থ মেয়েকে হ্রদের পানিতে ফে/লে পালাল মা, জীবন বা/জি রেখে বাঁচালেন তিন পথচারী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ৬:০৬ এএম

ভারতের হায়দরাবাদের হুসেন সাগর হ্রদে ছয় বছর বয়সী মেয়েকে ফেলে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। তবে তিন ব্যক্তির তাৎক্ষণিক সাহসিকতা ও মানবিক উদ্যোগে প্রাণে বেঁচেছে শিশুটি। বিপদের মুহূর্তে জীবন বাজি রেখে শিশুটিকে উদ্ধারের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের নগদ অর্থ দিয়ে পুরস্কৃত করেছে হায়দরাবাদ পুলিশ।এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিশুটিকে উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা তিন ব্যক্তি হলেন বালকৃষ্ণ, ফখরুদ্দিন ও মোহাম্মদ আফসার। তাঁদের মধ্যে একজন পথচারী, একজন অটোরিকশাচালক এবং অন্যজন ব্যবসায়ী।যেভাবে হ্রদে পড়ে শিশুটিপুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত নারী হায়দরাবাদের বোয়েনপল্লি এলাকার বাসিন্দা। তাঁর আট ও ছয় বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে। ছোট মেয়েটির দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে হতাশা থেকে তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।ঘটনার দিন ওই নারী তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে হুসেন সাগর হ্রদের পাড়ে যান। একপর্যায়ে বড় মেয়েকে আইসক্রিম কিনতে পাঠিয়ে ছোট মেয়েটিকে হ্রদের পানিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এরপর তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।পানিতে পড়ে যাওয়ার পর ছয় বছর বয়সী শিশুটি একটি বাঁশের খুঁটি আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করতে থাকে। এ সময় সে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকে। শিশুটির এমন অসহায় অবস্থা দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসেন আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি।তাৎক্ষণিক উদ্যোগে প্রাণে বাঁচল শিশুশিশুটির চিৎকার শুনে প্রথমে বালকৃষ্ণ নামের এক পথচারী আশপাশের লোকজনকে সতর্ক করেন। পরে ফখরুদ্দিন নামের এক অটোরিকশাচালক তাঁর গাড়ি থামিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য হ্রদের পানিতে ঝাঁপ দেন।এ সময় মোহাম্মদ আফসার নামের এক ব্যবসায়ীও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন। তিনজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিশুটিকে নিরাপদে হ্রদের তীরে তুলে আনা সম্ভব হয়। তাঁদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।পরে ঘটনাস্থলে থাকা টহল পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গান্ধী হাসপাতালে পাঠায়।মায়ের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলাঘটনার পর ডোমালগুদা থানার পুলিশ শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছে। শিশুটিকে হ্রদের পানিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ এবং এর পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ছোট মেয়ের দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা ও চিকিৎসার খরচের বিষয়টিও তদন্তের প্রাথমিক বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।এদিকে শিশুটিকে উদ্ধারে তিন ব্যক্তির সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার সজ্জনার। তিনি বলেন, অনেক সময় বিপদে কাউকে সাহায্য করার পরিবর্তে মানুষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে ওই তিন ব্যক্তির এগিয়ে আসা মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।বিপদের মুহূর্তে শিশুটিকে বাঁচাতে তাঁদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ ও সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে নগদ অর্থ দিয়ে সম্মানিত করেছে হায়দরাবাদ পুলিশ।

/বিএসএস