• ঢাকা
  • শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৮ এএম


সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ পদক্ষেপ নেবে, আশা ভারতের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১:০০ পিএম

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ভারত। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সরাসরি দোষারোপ করেনি নয়াদিল্লি।গতকাল মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ প্রত্যাশার কথা জানান।তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে ভারতের আশা।বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাম্প্রতিক একটি বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে এক সাংবাদিক জানতে চান, দুর্গাপূজার সময়েও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসছে। এ বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান কী?ওই বিবৃতিতে সংগঠনটি দাবি করেছে, গত তিন মাসে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ১৪১টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মধ্যে হত্যাকাণ্ডও রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, এসব ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। অতীতের মতো বর্তমানেও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।জবাবে রণধীর জয়সোয়াল অতীত বা বর্তমানের কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেননি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধেও সরাসরি কোনো অভিযোগ তোলেননি তিনি। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের আশা, বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হবে।’ভারতের এ বক্তব্যে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়ে প্রত্যাশার কথা উঠে এলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা, তদন্তের অগ্রগতি কিংবা গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।এদিকে বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের সংবাদ সম্মেলনে বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের অনুপস্থিতির বিষয়টিও উঠে আসে। তাঁর পরিবর্তে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রসচিব ওই বৈঠকে অংশ নেন।এ বিষয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, পরপর দুবার গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বৈঠকে বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধির অনুপস্থিতি দেখা গেছে। বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনের সম্প্রসারিত অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সেখানে যোগ দেননি। এবার বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না।তবে এ প্রশ্নেও সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জয়সোয়াল। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতির কারণ কিংবা বিষয়টিকে ভারত কীভাবে দেখছে, সে সম্পর্কেও কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক প্রসঙ্গে জয়সোয়াল জানান, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। বৈঠক শেষে দিল্লি ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার ও অর্থ পাচারের মতো আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্যদেশগুলো সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে।ওই সম্মেলনে বাংলাদেশও অংশ নিয়েছে বলে জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিমসটেকের সব সদস্যদেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করে ভারত।

/বিএসএস