যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তিচুক্তি আজ রবিবার স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক হবে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর কার্যক্রম সচল হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে ইরানের অবস্থানের স্পষ্ট অমিল দেখা গেছে।
তেহরান জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য তারা আলোচক পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না।এছাড়া সম্ভাব্য কোনো নতুন চুক্তি বা স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেননি ইরানি কর্মকর্তারা। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি চালু হওয়ার বিষয়টি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে না; আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার পরও ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো সংকেত না আসায় সম্ভাব্য চুক্তির বাস্তবতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে উভয় দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত জলপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এ কারণে প্রণালিটি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
/বিএসএস