• ঢাকা
  • সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ পিএম


সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পর জল্পনা, কংগ্রেসে ফিরছেন মমতা?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১১ জুন ২০২৬ ১২:৫৪ এএম

সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূল কংগ্রেসপ্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি আবার কংগ্রেসে ফিরতে যাচ্ছেন? ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ছেড়ে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) গঠন করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কয়েক সপ্তাহ আগেও এমন সম্ভাবনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কল্পনায়ও ছিল না। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নয়াদিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

রাজনীতিতে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়—এমন মন্তব্যের মধ্যেই আলোচনায় এসেছে, পশ্চিমবঙ্গে দলের ভেতর বড় ধরনের বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় পর্যায়ে তৃণমূলের কাউন্সিলর ও নেতারা হামলার শিকার হচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাইপো এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে গেছেন। অতীতে এ ধরনের বৈঠকে মমতার সরাসরি উপস্থিতি খুব কম দেখা গেলেও এবার তিনি নিজেই অংশ নিয়েছেন। সংসদে ২৯টি লোকসভা ও ১২টি রাজ্যসভা আসন নিয়ে তৃণমূল তৃতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল হলেও এত দিন বিজেপিবিরোধী রাজনীতিতে দলটি নিজস্ব কৌশল অনুসরণ করেছে। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্কও বরাবরই ওঠানামার মধ্যে ছিল।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্ত বৈঠক হয়, যা কয়েক বছরের মধ্যে প্রথম। জানা গেছে, আলোচনার মূল বিষয় ছিল তৃণমূলের ভবিষ্যৎ ও জোট রাজনীতি। এরপর বুধবার (১০ জুন) রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একই দিন রাতে মমতার সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর আরেক দফা বৈঠকের কথাও জানা যায়। ধারাবাহিক এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলো নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। গত ৪ মে ফল প্রকাশের পর রাজ্যের ২৯৪ আসনের বিধানসভায় তৃণমূল মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

এরপর থেকেই দলীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ শুরু হয়। শতাধিক কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জনের বেশি বিধায়ক মমতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হয়েছেন।

এদিকে কাকলী ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, তৃণমূলের ২৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জনের বেশি তাঁদের শিবিরে রয়েছেন এবং তাঁরা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নির্বাচনী বিপর্যয়ের এক মাসের মধ্যেই দলটির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—এমন দাবি প্রতিবেদনে করা হয়েছে। তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইনি লড়াই শুরু করলেও শিবসেনা ও এনসিপি ভাঙনের উদাহরণ সামনে রেখে দল রক্ষার সম্ভাবনাকে ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে তৃণমূল-কংগ্রেস একীভূত হওয়ার জল্পনায় পানি ঢেলে দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, তাঁদের ৬৪ জন বিধায়ক এবং ২০ জন সংসদ সদস্য কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পদক্ষেপকে সমর্থন করবেন না।

ঋতব্রত বলেন, ‘আমাদের বিধায়করা কংগ্রেসে যোগ দেবেন না। ২০ জন সংসদ সদস্যও এর বাইরে। তাহলে দলটা একীভূত করছে কারা? কংগ্রেসের সঙ্গে এই ধরনের কোনো সংযুক্তির প্রশ্নই ওঠে না।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহীদের হাত থেকে দীর্ঘদিনের দলকে বাঁচাতে মমতার সামনে কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়াই একটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে। এতে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব বজায় রাখার পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত হতে পারে।

নয়াদিল্লির প্রবীণ সাংবাদিকদের সূত্র অনুযায়ী, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সোনিয়া গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুটি প্রস্তাব দিয়েছেন। একটি হলো তাঁকে কংগ্রেসের জাতীয় সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া এবং অন্যটি হলো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া।

বিনিময়ে অভিষেকের পক্ষ থেকেও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মমতাকে রাজ্যসভায় পাঠানো এবং মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিবর্তে তাঁকে উচ্চকক্ষের বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব রয়েছে।

প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিকদের একাংশের মতে, কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া আঞ্চলিক দলগুলোর জন্য আবার মূল দলে ফিরে আসাই বিজেপির আধিপত্য মোকাবিলার কার্যকর পথ হতে পারে।

তবে আজীবন লড়াকু রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য তাঁর গড়া দলের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বিসর্জন দেওয়া সহজ হবে না। নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও পরিবারের উত্তরাধিকার রক্ষায় তিনি শেষ পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হতে পারে।

প্রতিবেদনটি ইন্ডিয়া টুডের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।