• ঢাকা
  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৭ পিএম


মার্কিন আদালতে প্রকাশ এপ’স্টেই’নের আ/ত্মহ/ত্যার চিরকুট

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ মে ২০২৬ ৬:০৯ পিএম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক প্রয়াত অর্থ লগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইন–এর লেখা বলে দাবি করা একটি কথিত আত্মহত্যার চিরকুট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় নথিটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।যৌন পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এপস্টেইনকে ২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রকাশিত চিরকুটে লেখা রয়েছে—পৃথিবীকে বিদায় জানানোর সময়টি নিজে বেছে নিতে পারা একটি আনন্দের বিষয়।

সেলমেটের দাবিনথি অনুযায়ী, হাতে লেখা চিরকুটটি এপস্টেইনের সাবেক সেলমেট ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলাস টারটাগ্লিওন খুঁজে পেয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমস চিরকুটটির অস্তিত্ব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে টারটাগ্লিওনের মামলা তদারককারী মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ কেনেথ কারাস এটি প্রকাশের নির্দেশ দেন।বিচারক জানান, চিরকুটটি টারটাগ্লিওনের ফৌজদারি মামলার অংশ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল। তাই এটি বিচার বিভাগীয় নথি হিসেবে জনসাধারণের দেখার অধিকার রয়েছে।

বর্তমানে মাদক–সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডে টানা চারটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন টারটাগ্লিওন।সত্যতা নিশ্চিত নয়বিচারক কারাস চিরকুটটির সত্যতা নিশ্চিত করেননি এবং এটি কার কার হাত ঘুরে এসেছে—সেই বিষয়টিও মূল্যায়ন করেননি। তার মতে, নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে এসব বিষয় প্রাসঙ্গিক নয়। নথি গোপন রাখার মতো কোনো আইনি কারণও পাওয়া যায়নি।

হলুদ লিগ্যাল প্যাডে লেখা চিরকুটে দাবি করা হয়েছে—তদন্তকারীরা কয়েক মাস ধরে কিছুই খুঁজে পাননি এবং বহু পুরোনো অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। চিরকুটে আরও লেখা—তোমরা আমার কাছে কী চাও, আমি কি কান্নায় ভেঙে পড়ব? এতে কোনো মজা নেই, এটি এর যোগ্যও নয়।পুরোনো অভিযোগের ইতিহাস২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এপস্টেইন। বিতর্কিত সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি কারাদণ্ড ভোগের পর মুক্তি পান তিনি।

পরে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচারের অভিযোগে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।চিরকুটটি প্রথম সামনে আসে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে, যখন জেল কক্ষে গলায় দাগসহ জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল এপস্টেইনকে। তখন ঘটনাটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছিল কর্তৃপক্ষ। কয়েক সপ্তাহ পর, ১০ আগস্ট ২০১৯–এ তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ফেডারেল তদন্তকারীরা আগে কখনও এই চিরকুট দেখেননি এবং এপস্টেইন–সংক্রান্ত প্রকাশিত বিপুল নথির মধ্যেও এটি ছিল না। বিচারক ব্যক্তিগত গোপনীয়তার যুক্তিও খারিজ করে নথি প্রকাশের নির্দেশ দেন, কারণ এপস্টেইনের মৃত্যু দীর্ঘদিন ধরেই জনআলোচনার বিষয়।

/বিএসএস