• ঢাকা
  • সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম


বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বেরিয়ে এলো একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৯:১৩ পিএম

ক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিহতরা হলেন জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে টাম্পা এলাকায় সর্বশেষ দেখা যায় এই দুই শিক্ষার্থীকে। এরপর নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় বৃষ্টিকেও হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

পরিকল্পিত হত্যার ইঙ্গিত

তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার কয়েকদিন আগে থেকেই সন্দেহভাজন ব্যক্তি বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অ্যামাজন থেকে ডাক্ট টেপ, ময়লার ব্যাগ ও আগুন জ্বালানোর সরঞ্জামসহ নানা জিনিস কিনেছিলেন।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো—হত্যার কয়েকদিন আগে তিনি চ্যাটজিপিটির কাছে জানতে চান, “যদি কাউকে কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে কী হবে?” এবং পরে প্রশ্ন করেন, “ওরা কীভাবে জানতে পারবে?”

নিখোঁজের দিন যা ঘটেছিল

১৬ এপ্রিল ছিল দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে শেষ যোগাযোগের দিন। সেদিন বিকেলের পর থেকে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। নজরদারি ক্যামেরায় বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দেখা গেলেও পরে তিনি আর নির্ধারিত সাক্ষাতে যাননি।

অন্যদিকে, লিমনের মোবাইল ফোনের অবস্থান ফ্লোরিডার ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় পাওয়া যায়। একই সময়ে সন্দেহভাজনের গাড়িকেও ওই এলাকায় দেখা গেছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রমাণ লুকানোর চেষ্টা

তদন্তকারীরা জানান, ঘটনার রাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি আবর্জনার ব্যাগ ও পরিষ্কার করার সামগ্রী অর্ডার করেছিলেন। তাকে গভীর রাতে বারবার একটি সেতুর আশপাশে যাতায়াত করতেও দেখা গেছে।

পরে একটি ময়লা ফেলার স্থান থেকে রক্তমাখা ফ্লোর ম্যাট, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও পোশাক উদ্ধার করা হয়।

লাশ উদ্ধারের ঘটনা

২৪ এপ্রিল একটি সেতুর নিচ থেকে কালো ব্যাগে ভরা দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়, যা পরে লিমনের বলে শনাক্ত করা হয়। একই স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া আরও কিছু দেহাংশ বৃষ্টির হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আদালতের নির্দেশ

আদালত সন্দেহভাজনকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যার পাশাপাশি প্রমাণ নষ্ট করা, মৃতদেহ গোপন করা ও অবৈধভাবে আটকে রাখার মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মামলার তদন্ত এখনও চলমান এবং আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।