বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ সেশনে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭০ ডলারে নেমেছে। আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো ১০০ ডলারের নিচে নেমে গেছে।ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, নতুন করে শুরু হওয়া কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানের পথ তৈরি হতে পারে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে চলা এই সংঘাতের কারণে অঞ্চলটির তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।সাম্প্রতিক দরপতনের আগে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছিল। গত ৯ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ১১৩ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠেছিল। একই সময়ে ডিজেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের কাছাকাছি উঠে যায়।আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছিল, এই দাম সংঘাত শুরুর আগের স্বাভাবিক দামের তুলনায় ৯৪ শতাংশ বেশি। সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।তবে চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনার খবর বাজারে আশাবাদ তৈরি করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন—এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বেড়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এদিকে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানিও চলতি মাসে প্রতিদিন ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছে।গত আগস্টে দেশটির রপ্তানি ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ২৪ লাখ ব্যারেলে নেমে যাওয়ার পর এই বৃদ্ধি ঘটেছে। সংঘাতের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনের পরিবর্তে সৌদি আরব বিকল্প পথে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করায় রপ্তানি বেড়েছে।জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন, গত ১০ দিনে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছে এটি এমন একটি ইঙ্গিত যে, তেল সরবরাহের সংকটের সবচেয়ে খারাপ সময় হয়তো কেটে যেতে শুরু করেছে।
/বিএসএস