যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন—এমন খবর প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠানোর অনুমতিই কেবল দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প জানান, ইরানে চিকিৎসাসামগ্রী ও অন্যান্য সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে ভ্যান্স তাঁর মতামত জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে তিনি অসুস্থ মানুষদের সহায়তার জন্য মানবিক সাহায্য পাঠানোর অনুমতি দেন। তবে এ পদক্ষেপের সঙ্গে শান্তি আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
ইরানের কাছে ভ্যান্সের চিঠি পাঠানোর খবর
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম ভ্যান্সের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগের খবর প্রকাশ করে। পরে নিউইয়র্ক টাইমসও একই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজায়ির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ভ্যান্স। আগামী কয়েক সপ্তাহে ইরানের ওপর ট্রাম্পের বড় ধরনের হামলা ঠেকানো এবং কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট শান্তিচুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। বরং দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার একটি রূপরেখা নিয়ে কথা বলা হয়েছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব, নেতৃত্ব দিতে চান ভ্যান্স
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে গত সপ্তাহে চিঠিটি পাঠানো হয়। রোববার সেটি ইরানের কাছে পৌঁছায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে ভ্যান্স সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন এবং মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়। আলোচনার শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কথা বলার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের নেতারা প্রস্তাবটিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবারের মধ্যে রেজায়ি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছিল। আগামী সপ্তাহে কাতার অথবা তুরস্কে আলোচনা শুরু হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব তথ্যের বিপরীতে ট্রাম্প প্রকাশ্যে শান্তি আলোচনার বিষয়টি নাকচ করেছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
কাতারের নতুন খসড়া চুক্তি নিয়ে আপত্তি ইরানের
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে ইরানের কাছে একটি নতুন খসড়া চুক্তি উপস্থাপন করেছেন।
তবে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর ভাষায়, এটি একটি ‘অগ্রহণযোগ্য ধারণা’। ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, পরিকল্পনাটি কোনো প্রকৃত প্রস্তাব নয়।
ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের খবর প্রকাশিত হলেও যুদ্ধ বন্ধে কোনো গ্রহণযোগ্য সমঝোতা হয়েছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। একদিকে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন, অন্যদিকে ট্রাম্পের অস্বীকৃতি এবং ইরানের পক্ষ থেকে খসড়া পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের খবর—সব মিলিয়ে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
/এএসএফ