• ঢাকা
  • সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম


নিরাপত্তাহীনতায় বাঙ্কার-সুবিধাযুক্ত প্রাসাদে থাকছেন সৌদি যুবরাজ!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৪০ পিএম

নিরাপত্তাহীনতায় বাঙ্কার-সুবিধাযুক্ত প্রাসাদে থাকছেন সৌদি যুবরাজ!ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বাঙ্কার-সুবিধাযুক্ত একাধিক প্রাসাদের মধ্যে অবস্থান করছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর সুরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা দল।দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে ওয়াইনেট নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, হুতিদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি রাজধানী রিয়াদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় ৪১ বছর বয়সী যুবরাজ তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কঠোর করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়। ওই দিন একটি জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি রক্তদান করেন।রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগক্রমবর্ধমান হামলার কারণে রিয়াদের কিছু এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। শহরের আর্থিক এলাকার কর্মী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থী এবং কূটনীতিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অথবা আশ্রয়ে অবস্থান করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি কর্মকর্তারা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ব্যবস্থার মজুত কমে আসা নিয়ে সতর্ক করেছেন। বিশাল ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখা এবং একই সময়ে একাধিক স্থানে হামলার হুমকি মোকাবিলা করতে গিয়ে সৌদি আরবকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে।এ অবস্থায় রাজপ্রাসাদ ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর মতো কৌশলগত স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশ-প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা এয়ার-ডিফেন্স ব্যাটারি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।চাপে সৌদি যুবরাজের অর্থনৈতিক পরিকল্পনানিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনৈতিক রূপান্তর কর্মসূচি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবকে পর্যটন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘নিওম’-এর মতো ভবিষ্যৎমুখী উন্নয়ন প্রকল্প এবং রাজধানী রিয়াদের বিভিন্ন বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে।তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তুপ্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে লোহিত সাগরের উপকূল দিয়ে তেল পরিবহন ও রপ্তানির সুযোগ পায় দেশটি।এ ছাড়া লোহিত সাগরে নৌ-চলাচলের জন্যও হুতিদের হুমকি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে তার প্রভাব আঞ্চলিক অর্থনীতির বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।সব মিলিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি, আকাশ-প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৌদি আরবের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সূত্র: ওয়াইনেট নিউজ

/বিএসএস