যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইরানে হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্থাপনা এবং যোগাযোগের সাবমেরিন কেব্ল ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
রোববার (১১ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিতে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এ হুঁশিয়ারি দেন দেশটির নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি। তিনি বলেন, এসব স্থাপনা এখনো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সেগুলো ধ্বংস করা হবে।
৩০ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক, হরমুজ প্রণালি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রযুক্তি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন রেজায়ি।
তিনি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ব্যয়বহুল সম্পদ রয়েছে। আমরা এখনো এসব সম্পদকে আমাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিনি। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে এসব কেব্ল, ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্থাপনা এবং আরও অসংখ্য স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাবে।’
এসব অবকাঠামোকে ওই অঞ্চলে মার্কিন অর্থনীতির ‘স্পন্দন’ হিসেবে বর্ণনা করেন ইরানের এই নিরাপত্তাপ্রধান। তাঁর দাবি, এসব সম্পদের মূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে নতুন সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের জন্য ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও জানান রেজায়ি।
তিনি বলেন, ‘প্রথম সপ্তাহেই আমরা আমাদের সব সক্ষমতা প্রকাশ করে এমনভাবে পদক্ষেপ নিইনি। তা করলে পরবর্তী সময়ে ব্যবহারের জন্য আমাদের হাতে খুব বেশি কিছু অবশিষ্ট থাকত না।’
রেজায়ি আরও বলেন, ‘আজ যদি আবার সংঘাত শুরু হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই আরও বিস্তৃত ও ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করব।’
তাঁর এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
/এএসএফ