• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম


যুক্তরাষ্ট্রকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিল ইরান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৪৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে একটি সুনির্দিষ্ট ‘রোডম্যাপ’ বা রূপরেখা প্রস্তাব করেছে ইরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, পুরো অঞ্চলে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার পাশাপাশি ধাপে ধাপে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রস্তাবটির বিষয়ে অবগত আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানায়, সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে একটি বিস্তৃত আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার বিষয়টিও ইরানের প্রস্তাবিত রোডম্যাপে রাখা হয়েছে।এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের শর্তগুলো মেনে নিলে মাত্র সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করা সম্ভব।গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূটনীতির সুযোগ এখনও রয়েছে। তবে যেকোনো চুক্তি করতে হলে তেহরানের দাবিগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এসব দাবির মধ্যে অন্যতম হলো ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা।অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটন কূটনীতির পথ খোলা রাখলেও সামরিক বিকল্পও আলোচনার টেবিলে রয়েছে।বর্তমান কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও প্রকাশ্যে উভয় পক্ষই কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ফলে সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ এখনও সীমিত বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।এদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই ইরান ও দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের বিভিন্ন হামলার কারণে আরব উপদ্বীপের আশপাশের সামুদ্রিক বাণিজ্য ও অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার বর্তমানে পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে যৌথভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে।যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত গুরুতর প্রভাবের মুখে থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোর এই আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত বা আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত কিংবা ঘোষণা করা হয়নি।এদিকে, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মিশ্র বার্তা দিয়েছেন। নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যকার বৈঠকগুলোকে ফলপ্রসূ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, সম্ভাব্য একটি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে।তবে একই সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে তিনি তেহরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানের সামনে চুক্তিতে যাওয়ার অথবা সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়ার—এই দুই পথের যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

/বিএসএস