• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম


দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাপ্টার ক্লোজ করে মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তান, বিশ্বব্যাংকের পুনর্বিন্যাসে বদলে যাচ্ছে বিশ্বের অর্থনৈতিক মানচিত্র

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৯ পিএম

বিশ্বব্যাংক তাদের সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পুনর্বিন্যাসে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (এমইএনএ) অর্থনৈতিক বলয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ‘বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য’ বা এমইএনএএপি কাঠামোর আওতায় নেওয়া এই সিদ্ধান্ত ২০২৫ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা বেশি। এ কারণে দক্ষিণ এশিয়ার তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংযোগ আরও দৃঢ় হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পুনর্বিন্যাস দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তান বাদ পড়ায় এ অঞ্চলে ভারতের প্রভাব আরও বাড়তে পারে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, নতুন বলয়ে যুক্ত হওয়ায় পাকিস্তানের জন্য কিছু সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ, অর্থায়ন এবং শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে তেলের দামের ওঠানামা বা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটির অর্থনীতিতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বিশ্বব্যাংকের বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৫.৯ বিলিয়ন ডলার, যেখানে এমইএনএ অঞ্চলে বরাদ্দ ছিল ৪.৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে নতুন কাঠামোয় পাকিস্তান তুলনামূলক কম সহায়তা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, নতুন বলয়ে অন্তর্ভুক্তির পর পাকিস্তানকে সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে সৌদি আরব। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা ৫ বিলিয়ন ডলারের আমানতের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এই পুনর্বিন্যাসের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যাগত চিত্রেও পরিবর্তন এসেছে। আগে প্রায় ২০০ কোটির এই অঞ্চলের জনসংখ্যা এখন কমে প্রায় ১৭০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ভারতের অংশ বেড়ে প্রায় ৮৬ শতাংশে পৌঁছেছে।