কলকাতায় নিট (NEET) আন্দোলনের পর গ্রেফতার হওয়া ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনই মুসলিম সম্প্রদায়ের বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস অ্যাক্ট’, যা ‘গুন্ডা আইন’ নামে পরিচিত, প্রয়োগ করা হয়েছে। একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কিছু মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই আটটি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং সিজেপির (কককাচ জনতা পার্টি) পশ্চিমবঙ্গ শাখাসহ কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে কলকাতায় একটি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। নয়াদিল্লিতে পুলিশি নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) বিলুপ্তি এবং নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জবাবদিহি দাবি করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগে ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি মামলাসহ মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এসব মামলায় নতুন ‘গুন্ডা আইন’-এর ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কয়েকজন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন এবং তাদের ‘শুক্রবারের লোক’ বলে সম্বোধন করেন। বিরোধী পক্ষ ও মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এই মন্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নতুন ‘গুন্ডা আইন’ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, আইনের কিছু ধারা বিনা বিচারে দীর্ঘ সময় আটক, বিস্তৃত তল্লাশি এবং জামিন-সংক্রান্ত বিধানের কারণে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স ইউনিয়ন (এআইএলইউ) কলকাতা হাইকোর্টে আইনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থ মামলা করেছে। তবে ১৩ জুলাই হাইকোর্ট জরুরি শুনানির আবেদন নাকচ করে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য, আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা দাবি করেছেন, কয়েকজনকে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই আটক করা হয়েছে এবং মুসলিম পরিচয়ের কারণে বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: মাকতুব
/এএসএফ