• ঢাকা
  • রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম


বেনজীরকে ফেরাতে চার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই পুলিশ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২২ জুলাই ২০২৬ ১২:১২ এএম

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রত্যর্পণ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে দুবাই পুলিশ চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা ও অতিরিক্ত তথ্য চেয়েছে। বর্তমানে সেই তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করছে দুদক, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।

মঙ্গলবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আক্তারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তার করার পর বাংলাদেশ সরকারের কাছে মামলাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়। ওই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ইতোমধ্যে পাঠিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি দুবাই পুলিশ আবারও একটি চিঠি দিয়ে চারটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ চেয়েছে। চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুদকের কাছে পৌঁছেছে। বর্তমানে তদন্ত কর্মকর্তা চাওয়া তথ্য প্রস্তুত করছেন। কাজ শেষ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেগুলো দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।

চিঠিতে কী ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে আক্তারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন হওয়ায় তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে দুবাই পুলিশ যেসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানতে চেয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তারা সেসব তথ্যই প্রস্তুত করছেন।

এর আগে দুবাই পুলিশ নীতিগতভাবে বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে সম্মতি জানায়। প্রত্যর্পণের আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠানো হয়। বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখা, বাংলাদেশ পুলিশ এবং দুদক এ বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রও দুবাই থেকে পাঠানো চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা সম্ভব নয়। দুবাই পুলিশ বাংলাদেশের কাছে কিছু সাধারণ নথি ও তথ্য চেয়েছে, যা দুদকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে পেলেই দ্রুত সেগুলো দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পুরো প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে এবং দুবাই পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে আটক হয়েছেন। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দুদক ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠিয়েছে। ওই নথিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি দলিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।