• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৩ এএম


ইউরোপে প্রথমবার, ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ আনছে ফ্রান্স

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২১ জুলাই ২০২৬ ১০:২৪ পিএম

১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পথে এগোচ্ছে ফ্রান্স। প্রস্তাবিত আইনটি কার্যকর হলে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া ইউরোপের প্রথম দেশ হবে ফ্রান্স। একই সঙ্গে দেশটির উচ্চবিদ্যালয়গুলোতেও মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফরাসি সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শিশু-কিশোরদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেওয়া। নীতিনির্ধারকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানোর ফলে সাইবার বুলিং, ক্ষতিকর বা চরমপন্থী কনটেন্টের সংস্পর্শ, অনলাইন শিকারিদের ঝুঁকি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। এসব কারণেই বয়সভিত্তিক প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেই ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক কিছু ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হতে পারে, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে পারে।

এই উদ্যোগ শুধু ফ্রান্সেই সীমাবদ্ধ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল ও পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ বা বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ নিয়ে কাজ করছে। একই ধরনের নীতিমালা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে এ ধরনের আইন বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্ষেত্রে বয়স যাচাই কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সহজ নয়। অনেক জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মূল কার্যালয় ফ্রান্সের বাইরে হওয়ায় আইন বাস্তবায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে এবং আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা চলছে।

এদিকে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী দলের কিছু আইনপ্রণেতার মতে, বয়স যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও অনলাইনে পরিচয় গোপন রাখার নীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকারের অবস্থান হলো, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে ইউরোপজুড়ে শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নীতিমালা দেখা যেতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের এই উদ্যোগ অন্যান্য দেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে।