• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৪ এএম


ইরানের সঙ্গে সংঘাতে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত, তথ্য প্রকাশ পেন্টাগনের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২১ জুলাই ২০২৬ ৫:১৮ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। সোমবার (২০ জুলাই) প্রকাশিত এই তথ্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানে সামরিক অভিযানকে ঘিরে বাড়তে থাকা ব্যয় এবং জনঅসন্তোষের মুখে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, গত ৭ জুলাই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় ১০০ সেনা সদস্য কমবেশি আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে গেছেন। তিনি আরও জানান, আহতদের বেশির ভাগই সাধারণ মস্তিষ্কে আঘাত বা ‘কনকশন’-এ আক্রান্ত হয়েছেন।

পেন্টাগনের বিরুদ্ধে হতাহত সেনাদের প্রকৃত তথ্য গোপন করার অভিযোগ ওঠার পরই ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

এর আগে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করে পেন্টাগন। নিহতরা হলেন হাওয়াইয়ের ২৫ বছর বয়সী টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী ইসাবেলা গঞ্জালেস। একই হামলায় নিহত হওয়া তৃতীয় এক সেনার মরদেহ উদ্ধারে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, উত্তর ইরাকেও আরও এক মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ববাজারেও পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায়ও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্বে থাকা মার্কিন সেন্টকম তাদের দশম দফার বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে বাহরাইনে অবস্থিত ডারখোভিন পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে ইরান-সমর্থিত আইআরজিসি বাহরাইনের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং অ্যামাজনের ডাটা সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে।

এ ছাড়া ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে দুটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনায় সেগুলো অচল হয়ে পড়েছে।

প্রাথমিকভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু হলেও এখন হোয়াইট হাউস স্বীকার করছে যে তাদের মূল নজর হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের হামলা বন্ধ করাই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন ৪ ডলারের বেশি হয়েছে।

/এসএন